পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নারী-শিশুসহ হতাহত, উত্তেজনা চরমে
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে হতাহত, উত্তেজনা চরমে

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নারী-শিশুসহ হতাহত, উত্তেজনা চরমে

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে তথাকথিত 'সন্ত্রাসীদের' আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ধারাবাহিক আত্মঘাতী বোমা হামলার জন্য আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত যোদ্ধাদের দায়ী করে ইসলামাবাদ এ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ হামলায় নারী ও শিশুসহ অনেকে হতাহত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।

সরকারি বিবৃতিতে 'অকাট্য প্রমাণ' দাবি

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের কাছে 'অকাট্য প্রমাণ' রয়েছে যে তথাকথিত 'খারিজি'রা (পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আফগানিস্তানে অবস্থানরত তাদের নেতৃত্বের নির্দেশে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আফগানিস্তান সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানি তালেবান ও ইসলামিক স্টেট খোরসান প্রদেশের (আইএস-কেপি) সাতটি সন্ত্রাসী শিবির এবং গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে।

হতাহতের বিস্তারিত ও আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া

এএফপির খবরে বলা হয়, আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাখতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় নারী ও শিশুসহ কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছে। আফগানিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিহসুদ জেলায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে ১২ জনই শিশু ও কিশোর। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যায়নি। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলার জন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়ার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে কাবুল।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার পটভূমি

গত অক্টোবরের সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৭০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর এটিই ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত হামলার ঘটনা। কয়েক মাস ধরে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলার পর উত্তেজনা কমাতে সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় মাত্র কয়েক দিন আগেই তিন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দিয়েছিল আফগানিস্তান। পাকিস্তান সরকার বলেছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে বোমা হামলা এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত জেলা বাজাওর ও বান্নু'র সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০০৮ সালের পর ইসলামাবাদে হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ ওই শিয়া মসজিদে হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত এবং ১৬০ জনের বেশি আহত হন।

সামরিক বাহিনীর বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার বান্নুতে একটি নিরাপত্তা বহর লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। সেখানে বন্দুকযুদ্ধে পাঁচ 'সন্ত্রাসী' নিহত হন এবং বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি সামরিক যানে ধাক্কা দিলে দুই সেনাও প্রাণ হারান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, 'পাকিস্তানি জেনারেলরা তাঁদের দেশের নিরাপত্তা দুর্বলতা ঢাকতে এ ধরনের অপরাধের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দিতে চাইছেন।' দীর্ঘ ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনার কারণে প্রায়ই এ দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিংগুলো বন্ধ করে দিতে হচ্ছে, যা বাণিজ্য ও যাতায়াত বিঘ্নিত করছে।