ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার কারখানা বিধ্বস্ত, উদমুর্তিয়ায় বিমানবন্দর বন্ধ
ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা বিধ্বস্ত

ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার কারখানা বিধ্বস্ত

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার প্রত্যন্ত উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। শনিবার ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

হামলার বিস্তারিত বিবরণ

ইউক্রেন জানিয়েছে, দেশটির সেনারা মস্কোর পূর্বে ভটকিনস্কে অবস্থিত রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানাটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই কারখানায় ছোট-পরিসরের ইসকান্দার এবং আন্তঃমহাদেশীয় টোপোল-এম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল। ভটকিনস্ক ইউক্রেন থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা এই হামলার সাহসিকতা ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে।

ইউক্রেনের সেনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশীয়ভাবে তৈরি ও ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ফ্লামিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হামলার ফলে কারখানার এলাকায় আগুন ধরে যায় এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি

রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্দার ব্রেচালভ আগেই জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় একটি স্থাপনায় রাতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘হামলার ফলে ক্ষতি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।’ তবে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেননি।

উদমুর্তিয়ার রাজধানী ইজেভস্কের বিমানবন্দর এবং আশেপাশের অঞ্চলের শহরের বিমানবন্দরগুলো কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোসাভিয়াটসিয়া জানিয়েছে। এই পদক্ষেপ সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নেওয়া হয়েছে, যা অঞ্চলে উত্তেজনার মাত্রা নির্দেশ করে।

সংঘাতের প্রসার ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু

রাশিয়া তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের শক্তি অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে, যা শীতের মাসগুলোতে লাখ লাখ ইউক্রেনীয়ের জন্য বিদ্যুৎ এবং তাপ সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রতিক্রিয়াস্বরূপ, ইউক্রেনও ক্রমেই রাশিয়ার ভেতরে অবস্থিত সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে যে তারা রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাতেও হামলা চালিয়েছে। তবে সামারা অঞ্চলের রাশিয়ার কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এমন কোনো হামলার খবর প্রকাশ করেননি, যা পরিস্থিতির দ্বন্দ্বপূর্ণ প্রকৃতিকে উন্মোচন করে।

এই ঘটনাগুলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা এবং উভয় পক্ষের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।