মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি: জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী জাহাজ ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ও বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আমেরিকান সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিতে এই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক সমাবেশ চলছে, এবং ফোর্ড জাহাজের আগমন এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে:
- একটি বিমানবাহী জাহাজ – ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
- নয়টি ডেস্ট্রয়ার জাহাজ
- তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ
জিব্রাল্টার প্রণালী পেরিয়ে ফোর্ড জাহাজ ভূমধ্যসাগরের দিকে যাত্রার ছবি শুক্রবার তোলা হয়েছে। এই জাহাজটি তিনটি ডেস্ট্রয়ার জাহাজের সাথে রয়েছে, এবং যখন এটি নির্ধারিত অবস্থানে পৌঁছাবে, তখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭টিতে।
বিমানবাহী জাহাজের সামরিক ক্ষমতা
ফোর্ড ও লিংকন উভয় বিমানবাহী জাহাজই হাজার হাজার নাবিক দ্বারা পরিচালিত এবং প্রতিটিতে ডজন ডজন যুদ্ধবিমান নিয়ে গঠিত এয়ার উইং রয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বৃহৎ বিমানবাহী জাহাজের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল ঘটনা, যা অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত দেয়।
বিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ
বিমানবাহী জাহাজের যুদ্ধবিমান ছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ডজন ডজন অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এক্স প্ল্যাটফর্মের ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট, ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ এবং বিভিন্ন মিডিয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- এফ-২২ র্যাপ্টর স্টিলথ ফাইটার জেট
- এফ-৩৫ লাইটনিং স্টিলথ ফাইটার জেট
- এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান
- কেসি-১৩৫ এয়ারিয়াল রিফুয়েলিং বিমান, যা অন্যান্য বিমানের অপারেশন নিশ্চিত করে
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ভূমি-ভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করেছে বলে জানা গেছে। অঞ্চলটিতে অবস্থিত অসংখ্য গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজ সমুদ্রে বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদান করে।
স্থলবাহিনী ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
যদিও ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযানে স্থলবাহিনীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হাজার হাজার সামরিক কর্মী মোতায়েন রয়েছে। এই ঘাঁটিগুলো ইরানের পাল্টা আক্রমণের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিতে রয়েছে।
২০২৫ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর, তেহরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল, যা অঞ্চলটিতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকরা।
