ইউক্রেন-মলদোভার অভিযানে ১০ গ্রেফতার: জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক হত্যার ছক ভেস্তে
ইউক্রেন-মলদোভার অভিযানে ১০ গ্রেফতার: হত্যার ছক ভেস্তে

ইউক্রেন-মলদোভার যৌথ অভিযানে ১০ জন গ্রেফতার: জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক হত্যার ছক ভেস্তে

ইউক্রেন ও মলদোভার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি যৌথ অভিযানে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মস্কোর নির্দেশে জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। প্রতিটি হত্যার জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ছিল বলে জানানো হয়েছে।

যৌথ তদন্তে সংগঠিত চক্রের সন্ধান

ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল রুসলান ক্রাভচেঙ্কো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইউক্রেন ও মলদোভার যৌথ তদন্তে একটি সংগঠিত চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। তারা পরিচিত ইউক্রেনীয় নাগরিক ও বিদেশিদের ‘চুক্তিভিত্তিক হত্যা’র প্রস্তুতি নিচ্ছিল।’ তিনি আরও জানান, দেশজুড়ে ২০টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ, অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং রাশিয়ান হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতার ও পূর্বের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

অভিযানে ইউক্রেনে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়, আর বাকি তিনজনকে মলদোভায় আটক করা হয়েছে। এর আগে চার বছর আগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিল কিয়েভ। মলদোভা আগেই এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ইউক্রেনের কয়েকজন জনপরিচিত ব্যক্তিকে ‘শারীরিকভাবে নির্মূল’ করার ষড়যন্ত্র নিয়ে যৌথ তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

লক্ষ্যবস্তু ও পারিশ্রমিকের প্রতিশ্রুতি

কিয়েভ সন্দেহভাজনদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর কৌশলগত যোগাযোগ বিভাগের আন্দ্রি ইউসভের নাম প্রকাশ করেছে। ক্রাভচেঙ্কো বলেন, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর পরিচিতি ও প্রভাবের ওপর নির্ভর করে রুশ পক্ষ হামলাকারীদের সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার পর্যন্ত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

মস্কোর পাল্টা অভিযোগ

অন্যদিকে, মস্কোও অভিযোগ করেছে যে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হত্যার সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এই গ্রেফতারগুলি ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক হত্যার পরিকল্পনা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরে। ভবিষ্যতে আরও তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।