আলবেনিয়ার রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৩০-৪০
আলবেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৩০-৪০

আলবেনিয়ার রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৩০-৪০

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে এবং পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।

দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার

এএফপি-এর তথ্যমতে, পার্লামেন্ট ভবনের আশেপাশের রাস্তায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলে। এই ঘটনায় পুলিশ অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি দাবি করেছে যে তাদের প্রায় ৪০ জন সমর্থককে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীরা 'রামা বিদায় হও' এবং 'রামার জেল চাই' স্লোগান দিয়ে রাজপথ উত্তাল করে তোলেন।

দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা

গত ডিসেম্বরে উপ-প্রধানমন্ত্রী বেলিন্ডা বাল্লুকুর বিরুদ্ধে একটি বিশেষ প্রসিকিউশন ইউনিট কর্তৃক দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ চলছে। রামার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বাল্লুকুকে বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া রামা সরকারের বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীও বর্তমানে দুর্নীতির তদন্তের আওতায় রয়েছেন।

বিরোধী দলীয় নেতা সালি বেরিশা বলেন, 'আমরা আলবেনিয়াকে এডি রামার হাত থেকে রক্ষা করব, যিনি দেশকে দারিদ্র্য ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত করেছেন।' অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলবানা কোসিউ এই অস্থিরতার নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে 'ভন্ডামি' ও পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগ এনেছেন।

আলবেনিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গত বছর চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসা রামার সোশ্যালিস্ট পার্টি বর্তমানে পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভোগ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইউ) যোগদানের লক্ষ্য থাকলেও, আলবেনিয়ার রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরে বাম ও ডানপন্থী দলগুলোর তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সংগঠিত অপরাধের যোগসাজশের অভিযোগে জর্জরিত।

এই বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ আলবেনিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য অর্জনের পথে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।