মার্কিন বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড পাঠিয়েছেন। নির্ভরযোগ্য মেরিটাইম ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, এই রণতরীটি ইতিমধ্যে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে।
২০০৩ সালের পর সবচেয়ে বড় সমরাস্ত্র বহর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সমরাস্ত্র বহর মোতায়েন করছেন। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তুতি নিয়েছিল, এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় সমরাস্ত্রের বহর আর দেখা যায়নি।
উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা সত্ত্বেও ট্রাম্প দ্বিতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে।
রণতরী বহরের গতিবিধি
মেরিটাইম ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড স্ট্রাইক গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত আর্লি বার্ক-ক্লাস ডেস্ট্রয়ার 'ইউএসএস মাহান' মরক্কো ও স্পেনের মধ্যকার পানিপথ জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প এই 'ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ' বা রণতরী বহরটিকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও কয়েক দিন সময় লাগবে
বিশ্লেষকদের ধারণা, বিমানবাহী রণতরীটির মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছাতে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর সামরিক অবস্থানে যেতে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে। রণতরীটি বর্তমানে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করলেও লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছাতে কিছু সময় প্রয়োজন হবে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখলেও একই সাথে সামরিক প্রস্তুতিও বাড়িয়ে তুলছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর এই চলমান অভিযান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনের দিনগুলোতে প্রকাশিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উন্নয়নকে সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।
