গাজার ভবিষ্যৎ আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের দাবি হামাসের
ফিলিস্তিনি ইসলামি আন্দোলন হামাস স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথমেই ইসরাইলি আগ্রাসন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠকের পর হামাস এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংগঠনটি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজা ও ফিলিস্তিনি জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান আলোচনা বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে কেবল তখনই, যখন ইসরাইলি আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ হবে, অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং ফিলিস্তিনিদের বৈধ জাতীয় অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
হামাসের বিবৃতিতে উল্লেখযোগ্য দাবিসমূহ
হামাসের বিবৃতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর। সংগঠনটি বলেছে:
- ইসরাইলি আগ্রাসনের সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া আবশ্যক
- গাজার ওপর থেকে অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে
- ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে
- জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার আগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়
এই অবস্থান সামনে রেখে হামাস যেকোনো আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে এই বিষয়গুলো পূরণের ওপর জোর দিয়েছে।
ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠক ও প্রতিশ্রুতি
ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের উদ্বোধনী সভা। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতির চার মাসের বেশি সময় পর এই বৈঠকে ফিলিস্তিনি অঞ্চল পুনর্গঠনে অর্থ ও কর্মী প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কয়েকটি দেশ। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বেশিরভাগ উপসাগরীয় দেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র গাজা পুনর্গঠনে সাত বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেবে বলে অঙ্গীকার করেছে।
এছাড়াও পাঁচটি দেশ সেনা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া। নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা অনুমোদন করার পর এই অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
নতুন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর আমেরিকান প্রধান মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স জানিয়েছেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া এই নতুন বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করবে। এই বাহিনী গাজা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসরাইলের অবস্থান: পুনর্গঠনের আগে নিরস্ত্রীকরণ
অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন, গাজার পুনর্গঠন শুরু হওয়ার আগে হামাসকে নিরস্ত্র হতে হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের চুক্তি হয়েছে যে গাজার নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া সেখানে কোনো পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে না। নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনের বৈঠকে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন স্যার তার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এই অবস্থান ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষের শর্ত পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে অর্থ ও সেনা সহায়তার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া গাজার স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
