পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ধারাবাহিক হামলায় নিহত অন্তত ১২, আফগান সীমান্তে উত্তেজনা
পাকিস্তানে ধারাবাহিক হামলায় নিহত ১২, আফগান সীমান্তে উত্তেজনা

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ধারাবাহিক হামলায় নিহত অন্তত ১২

উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ধারাবাহিক বোমা হামলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সহিংসতার এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সীমান্তবর্তী অস্থির অঞ্চলগুলোতে, যা আফগানিস্তানের সঙ্গে সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

বাজাউর জেলায় আত্মঘাতী হামলায় শিশুসহ ১১ নিরাপত্তা সদস্য নিহত

গত সোমবার বাজাউর জেলায় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিরাপত্তা চৌকির দিকে এগিয়ে গিয়ে বিস্ফোরিত হলে এক শিশুসহ ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও সাতজন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাশের একটি ভবন ধসে পড়ে একটি মেয়েশিশুর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরক ভর্তি যানটি একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালে আঘাত করলে ভেতরে অবস্থানরত পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কোরের সদস্যরা প্রাণ হারান। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বান্নু ও শাংলা জেলায় পৃথক হামলা ও গোলাগুলি

এর আগে একই দিনে বান্নু জেলায় একটি থানার প্রবেশপথের কাছে পার্ক করা মোটরসাইকেলে রাখা বোমা বিস্ফোরণে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৭ জন আহত হন। আফগান সীমান্তসংলগ্ন এই জেলাটি দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি তৎপরতার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে।

এদিকে শাংলা জেলায় পৃথক এক অভিযানে পুলিশ ও বিদ্রোহীদের মধ্যে গোলাগুলিতে তিন পুলিশ সদস্য এবং তিন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহত বিদ্রোহীরা চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পর হামলা বৃদ্ধি

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসেই দেশটিতে সন্ত্রাসী সহিংসতায় ২ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি এবং উদ্বেগজনক প্রবণতা নির্দেশ করছে।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, এসব হামলার বেশিরভাগের পেছনে রয়েছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), যাদের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়। আফগান সীমান্তঘেঁষা উপজাতীয় অঞ্চল থেকেই মূলত সংগঠনটির সদস্যরা আসে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এই ঘটনাগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা এবং আফগান সীমান্তে চলমান উত্তেজনার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।