এপস্টেইন কাণ্ডে হিলারি ক্লিনটনের ৬ ঘণ্টার সাক্ষ্য: 'কোনো অপরাধের খবর জানতাম না'
এপস্টেইন কাণ্ডে হিলারি ক্লিনটনের ৬ ঘণ্টার সাক্ষ্য

এপস্টেইন কাণ্ডে হিলারি ক্লিনটনের দীর্ঘ সাক্ষ্য: 'কোনো অপরাধের খবর জানতাম না'

নিউইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত একটি সংসদীয় কমিটির কাছে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। সাক্ষ্যদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রয়াত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না।

হিলারির জোরালো দাবি

হিলারি ক্লিনটন জোর দিয়ে বলেন, এপস্টেইন বা তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের কোনো অপরাধের খবর তিনি জানতেন না। এমনকি তিনি কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান, দ্বীপ বা কোনো দপ্তরে যাননি বলেও উল্লেখ করেন। তার মতে, এই তদন্ত প্রক্রিয়াটি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় তা জনসমক্ষে হওয়া উচিত ছিল, যাতে তথ্যের কোনো অপব্যাখ্যা না ঘটে।

শুনানিতে বাধা ও রাজনৈতিক সমালোচনা

সাক্ষ্যগ্রহণের মাঝপথে কোলরাডোর কংগ্রেস সদস্য লরেন বোবার্টের একটি কর্মকাণ্ডের কারণে শুনানি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। বোবার্ট নিয়ম লঙ্ঘন করে কক্ষের ভেতর থেকে হিলারি ক্লিনটনের একটি ছবি তুলে এক রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সারকে পাঠিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা একে অপেশাদার আচরণ এবং সস্তা প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হিলারি ক্লিনটন রিপাবলিকান সদস্যদের সমালোচনা করে বলেন, তারা অন্য কাউকে এপস্টেইন বা ম্যাক্সওয়েল সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করেননি। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, কেননা এপস্টেইন নথিতে ট্রাম্পের নাম বারবার আসা সত্ত্বেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না।

বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্যের অপেক্ষা

অন্যদিকে, হিলারির স্বামী এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও এই বিষয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষ্য দেবেন বলে নির্ধারিত হয়েছে। ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেশনাল প্যানেলে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন। কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার জানিয়েছেন, দীর্ঘ সাত মাস চেষ্টার পর এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়েছে।

কোমার মনে করেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং বিল ক্লিনটনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। যদিও ক্লিনটন দম্পতি শুরু থেকেই এই তদন্তকে রাজনৈতিক চাল হিসেবে বর্ণনা করে আসছিলেন, তবে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ এড়াতে শেষ পর্যন্ত তারা সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন।

এই সাক্ষ্যগ্রহণ মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে এপস্টেইন কাণ্ডের সত্যতা উদঘাটন এবং উচ্চপর্যায়ের জবাবদিহিতা নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য এবং আগামী বিল ক্লিনটনের জবানবন্দি এই মামলার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।