বিয়ের পথে থমকে গেল জীবন: বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নববধূ মার্জিয়া আক্তারসহ ১৪ জন নিহত
খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু) সহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
নববধূর জীবনাবসান
মার্জিয়া আক্তার গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে হিসেবে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শ্যালাবুনিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরপক্ষের সদস্যরা কনের বাড়িতে রাতযাপন করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার, মার্জিয়া আক্তার তাঁর নতুন জীবন শুরু করতে মাইক্রোবাসযোগে স্বামীর বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর আগেই মাইক্রোবাসটি নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় মার্জিয়া আক্তারসহ মোট ১৪ জন যাত্রী নিহত হন।
মর্মান্তিক দৃশ্য
দুর্ঘটনার পর নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ প্রথমে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মার্জিয়া আক্তারসহ সকলকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নববধূর নিথর দেহটি স্ট্রেচারে করে মর্গে নেওয়ার সময় সোনালি পাড়ের বিয়ের ওড়না দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহমেদ জানান, মাইক্রোবাসটিতে চালকসহ মোট ১৫ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন, আর একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাইক্রোবাসটিতে বরপক্ষের ১১ জন, কনেপক্ষের ৩ জন এবং চালক ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। হাসপাতালের মর্গে নবদম্পতিসহ ১০টি মরদেহ রাখা হয়েছে, যা স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে।
পরিণাম ও প্রতিক্রিয়া
এই দুর্ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। মার্জিয়া আক্তারের পরিবার এবং অন্যান্য নিহতদের স্বজনরা এই আকস্মিক মৃত্যুতে মুহ্যমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিও এবং ছবিগুলোতে মানুষের সহানুভূতি ও শোক প্রকাশ করা হচ্ছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনায়, বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য।
