বাগেরহাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত, আহত অন্তত ১৫
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৪ নিহত

বাগেরহাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর ও কনেসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নৌবাহিনীর স্টাফবাসের কমপক্ষে ১৪ জন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) বিকালে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সময় বিকালে নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাস ও একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে এ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। রামপাল থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বর্ণনা অনুযায়ী, মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলের বিয়ে শেষে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে পরিবারসহ বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী নৌবাহিনীর স্টাফবাসের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

নিহত ও আহতদের তালিকা

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন:

  • আব্দুর রাজ্জাক (মংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি)
  • তার স্ত্রী আঞ্জুমান
  • ভাই সামিউল আলম
  • তিন ছেলে: বর সাব্বির, ইমরান ও আলামিন
  • শ্যালিকার দুই মেয়ে: পুতুল ও ঐশী
  • কনে মার্জিয়া মিতু (২৫)
  • কনের ছোট বোন লামিয়া (১২)
  • কনের নানী (৫৮)
  • মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখ (৩৬)

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪ জন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, আরও ৪ জনের লাশ হাসপাতালে রয়েছে যাদের পরিচয় এখনও অজানা।

উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফের মতে, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের লাশ এসেছে, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। আরও একজন রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন এবং তার চিকিৎসা চলছে।

প্রশাসনের তদারকি

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ মো. হাসান চৌধুরী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে সহায়তা ও আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

এই দুর্ঘটনা বাগেরহাট অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।