সৌদি আরবের উপহার খেজুরের বরাদ্দ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ
সৌদি আরবের বাদশাহ প্রতিষ্ঠিত ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ২৫০ কার্টন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গত ৫ মার্চ সংশোধিত এক আদেশের মাধ্যমে এই বরাদ্দ চূড়ান্ত করে জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে পাঠিয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাত ও ইউনিয়নের সংখ্যা বিবেচনা করে এই খেজুর বণ্টন করা হয়েছে বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
এদিকে উপহারের এই খেজুর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এক ফেসবুক লাইভে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, তার উপজেলায় ৩৯ কার্টন খেজুর বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তার এই বক্তব্যের পর জেলাজুড়ে খেজুরের সঠিক হিসাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। শুরুতে বরাদ্দের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকলেও গত ৫ মার্চের নতুন আদেশে তা সংশোধন করে ১২ হাজার ২৫০ কার্টনে নামিয়ে আনা হয়।
জেলাভিত্তিক বরাদ্দের বিস্তারিত
নতুন এই তালিকায় ঢাকা বিভাগে ঢাকা জেলায় ২৯৭ কার্টন, নারায়ণগঞ্জে ১০১, গাজীপুরে ১০৩, মুন্সিগঞ্জে ১৮০, মানিকগঞ্জে ১৭১, নরসিংদীতে ১৮৮, টাঙ্গাইলে ৩০০, কিশোরগঞ্জে ২৮০, ফরিদপুরে ২১০, গোপালগঞ্জে ১৭৫, মাদারীপুরে ১৫৭, শরীয়তপুরে ১৭৩ এবং রাজবাড়ীতে ১১০ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ময়মনসিংহে ৪১৪, নেত্রকোনায় ২২৬, জামালপুরে ১৭৭ এবং শেরপুরে ১৩৭ কার্টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রামে ৫০০ কার্টন, কক্সবাজারে ১৮৭, রাঙ্গামাটিতে ১৩০, খাগড়াছড়িতে ৯৭, বান্দরবানে ৯০, কুমিল্লায় ৫০০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬০, চাঁদপুরে ২৩৫, নোয়াখালীতে ২৪৩, লক্ষ্মীপুরে ১৫৪ এবং ফেনীতে ১১২ কার্টন খেজুর বরাদ্দ পেয়েছে। রাজশাহী বিভাগে রাজশাহীতে ১৯০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১৬, নওগাঁয় ২৫০, নাটোরে ১৩৫, পাবনায় ১৯৬, সিরাজগঞ্জে ২২১, বগুড়ায় ২৯১ এবং জয়পুরহাটে ৮১ কার্টন খেজুর পাঠানো হয়েছে।
রংপুর বিভাগে রংপুরে ২০১, কুড়িগ্রামে ১৯২, নীলফামারীতে ১৬১, গাইবান্ধায় ২১৪, লালমনিরহাটে ১১৬, দিনাজপুরে ২৬৫, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪১ এবং পঞ্চগড়ে ১১২ কার্টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুলনা বিভাগে খুলনায় ১৮২, বাগেরহাটে ২০৩, সাতক্ষীরায় ২০৭, যশোরে ২৪৭, ঝিনাইদহে ১৭৫, মাগুরায় ৯২, নড়াইলে ১০১, কুষ্টিয়ায় ১৭৪, মেহেরপুরে ৫১ এবং চুয়াডাঙ্গায় ১০৫ কার্টন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বরিশালে ২৩৪, পটুয়াখালীতে ২০২, ভোলায় ১৮৭, পিরোজপুরে ১৩৯, বরগুনায় ১১০, ঝালকাঠিতে ৮২, সিলেটে ২৭৫, হবিগঞ্জে ২০০, মৌলভীবাজারে ১৭০ এবং সুনামগঞ্জে ২২৫ কার্টন বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বরাদ্দের নীতিমালা ও বিতরণ প্রক্রিয়া
বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার জনসংখ্যা ও ইউনিয়নের আনুপাতিক হার বিবেচনা করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকরা নির্দিষ্ট তালিকা মেনে স্থানীয় পর্যায়ে এই খেজুর বিতরণ করবেন। এর আগে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও ফাউন্ডেশনকে খেজুর দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরাসরি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এক ভিডিও বার্তায় জানান, তার উপজেলায় ৩৯ কার্টন খেজুর পাওয়া গেছে। তবে সরকারি নথিতে কুমিল্লার জন্য প্রথমে ৫২০ কার্টন বরাদ্দ থাকলেও পরে তা সংশোধন করে ৫০০ কার্টন করা হয়। এই হিসাব সমন্বয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব খেজুর বিতরণ করা হবে।
