কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীতে দুর্ঘটনা: নিখোঁজ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গড়াই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) পৃথক সময়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল ও নৌবাহিনীর বিশেষ দল মরদেহ দুটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিহত দুই শিশু হলো তায়েবা (৭) ও সুরাইয়া (৮)। তায়েবা ওসমানপুর গ্রামের ফারুকের মেয়ে এবং সুরাইয়া একই গ্রামের সোহেলের মেয়ে। জানা যায়, শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর আড়াই টার দিকে খোকসা উপজেলার ওসমানপুরে গড়াই নদীর খেয়াঘাটের সন্নিকটে নদী তীরে খেলার পর চার বান্ধবী নদীতে গোসল করতে নামে।
এসময় তারা সাতরে নদীর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় প্রবল স্রোতে পানিতে তলিয়ে যায়। কাছাকাছি নদীতে চলমান নৌকার মাঝি দ্রুত ছুটে এসে দুইজনকে পানি থেকে টেনে তুলে উদ্ধার করেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত শিশু তায়েবা ও সুরাইয়া নদীর পানির গভীরে তলিয়ে যায় এবং নিখোঁজ হয়ে পড়ে।
উদ্ধার অভিযানের চ্যালেঞ্জ
দুর্ঘটনার পর খোকসার ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের টিম ও স্থানীয়রা প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ধরে ব্যাপক অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ দুই শিশুকে উদ্ধার করতে পারেনি। নদীর স্রোত ও গভীরতা উদ্ধার কাজকে কঠিন করে তোলে।
পরবর্তীতে খুলনা থেকে নৌবাহিনীর ডুবুরি টিম এসে অনুসন্ধান ও অভিযানের এক পর্যায়ে নিখোঁজ তায়েবা ও সুরাইয়াকে উদ্ধার করে। খোকসা ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আলতাফ হোসেন জানান, "নদীতে স্রোতের কারণে দুই শিশু তায়েবা ও সুরাইয়া তলিয়ে নদীর গভীরে আটকে ছিল। খুলনার ডুবুরি টিম এসে তাদের উদ্ধার করে।"
স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে নদী ও জলাশয়ে শিশুদের গোসল ও খেলার সময় প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা শিশু নিরাপত্তা ও জলাভূমিতে সতর্কতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নদী ও জলাশয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।



