মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ফেরি টার্মিনালে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু, আহত ৬
শিবালয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ৬

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু, আহত ছয়

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় আরিচা ফেরি টার্মিনাল এলাকায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গাড়ির চাকায় হাওয়া দেওয়ার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মোহাম্মদ মল্লিক নামে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ছয় জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ ও সময়

শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে ওই এলাকার একটি দোকানে গাড়ির চাকায় হাওয়া ভর্তির কাজ চলছিল। এসময় হঠাৎ হাওয়া দেওয়ার মেশিনের সিলিন্ডারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়, যা মুহূর্তেই চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

নিহত ও আহতদের পরিচয়

নিহত মোহাম্মদ মল্লিক শিবালয় নতুন পাড়ার বাসিন্দা আনছার মল্লিকের ছেলে। বিস্ফোরণে সিলিন্ডারের একটি টুকরো পাশের দোকানে বসে থাকা মল্লিকের গায়ে এসে পড়ে, যা তার মারাত্মক আহত হওয়ার কারণ হয়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখান থেকে ঢাকায় আনার পথে তার মৃত্যু ঘটে।

আহতদের মধ্যে দুই জনের নাম জানা গেছে: সাব্বির (১৬ বছর) এবং জাহাঙ্গীর (৪৫ বছর)। মোট ছয় জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে থাকা ছোট-বড় যন্ত্রাংশ চারদিকে উড়ে গিয়ে পড়ে, যা আহতদের সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

পুলিশি তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা

শিবালয় থানার ওসি মো. মনির হোসেন ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং বিস্ফোরণের সঠিক কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সিলিন্ডার ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাওয়া দেওয়ার মেশিন ও সিলিন্ডারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সঠিক ব্যবহার না করলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে এবিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনা শিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।