নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণ: ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত, তিনজন আহত
নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম দেওভোগ পাক্কারোড এলাকায় একটি তিনতলা ভবনে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় দুজন গুরুতর দগ্ধসহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
বিস্ফোরণের বিস্তারিত বিবরণ
বিস্ফোরণটি ঘটেছে আরমান মিয়ার মালিকানাধীন ওই তিনতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি ঝুটের গুদামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে, যা আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। বিস্ফোরণের ফলে ভবনের নিচতলার গুদামের দুটি রুম ও রান্নাঘরের দেয়ালের অংশ, দরজা এবং জানালা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন ঝুট ব্যবসায়ী শিপন হোসেন, তার কর্মচারী লিটন এবং বাড়ির ভাড়াটে ছগির মিয়া। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিপন ও লিটনের অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও কর্তৃপক্ষের তদন্ত
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশপাশের চারটি ভবনের জানালার কাচ ভেঙে গেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, তিতাস গ্যাসের পাইপের লিকেজই এই বিস্ফোরণের মূল কারণ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভবনের নিচতলার রান্নাঘরের চুলার পাইপলাইনে দীর্ঘদিন ধরে লিকেজ ছিল, যার ফলে পুরো ভবনে গ্যাস জমে গিয়েছিল এবং নালার গ্যাস ভরে উঠেছিল।
কর্মকর্তার মতে, জমে থাকা গ্যাস হঠাৎ আগুনের সংস্পর্শে এসে তীব্র শক্তি নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের পাইপলাইনের লিকেজটি অনেক দিনের পুরোনো ছিল, যা দীর্ঘ সময় ধরে নিচে ও ড্রেনেজের ভেতরে জমা হয়ে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল রানা জানান, বিস্ফোরণের পর ভবনের নিচতলার ঝুটের গুদাম থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়, যা এলাকায় আরও আতঙ্ক বাড়িয়ে তোলে। অপর বাসিন্দা আকরাম আলী উল্লেখ করেন, বিস্ফোরণের ঝাঁকুনিতে আশপাশের কয়েকটি ভবনের গ্লাস ভেঙে যাওয়ায় লোকজনের মধ্যে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনা নারায়ণগঞ্জ শহরে গ্যাস নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে নতুন করে উসকে দিয়েছে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।



