মোটরসাইকেল সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজা নিহত, মেলান্দহে শোকের ছায়া
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চাচা ও ভাতিজা নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মেলান্দহ পৌর শহরের মিয়ারপাড়া এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ трагеিয়া ঘটে। নিহতরা হলেন ঢালুয়াবাড়ী এলাকার ধীরেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে কাজল (৪২) ও তাঁর ভাতিজা আকাশ (২০)।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকায় একটি বিয়ের দাওয়াত শেষে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন কাজল ও আকাশ। মোটরসাইকেলে ফেরার পথে মিয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আকাশ মারা যান।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন কাজলকে উদ্ধার করে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। অপর মোটরসাইকেলচালক সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা
রাতেই ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মোটরসাইকেল দুটি ও মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলে ও অপরজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনাস্থল থেকে বাইক দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।"
নিহত দুজনই হাজরাবাড়ী বাজারে একটি সেলুনে কাজ করতেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এই ঘটনা আবারও সড়ক দুর্ঘটনা ও মোটরসাইকেল নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে রাতের বেলা দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো এবং বিপরীত দিক থেকে আসা যানের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন না করায় এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, ট্রাফিক সিগন্যাল এবং গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি বাড়ানো উচিত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
