মধ্যপ্রাচ্যে যৌথ হামলায় অস্থিরতা, তেলের দামে টানা উর্ধ্বগতি
মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় তেলের দাম বাড়ছে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে যৌথ হামলায় অস্থিরতা, তেলের দামে টানা উর্ধ্বগতি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৪টা (গ্রিনিচ মান সময়) পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৭০ ডলার বা ২.২ শতাংশ বেড়ে ৭৯.৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮২.৩৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা গত বছরের জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ। দিনশেষে তেলের দাম ৬.৭ শতাংশ বেশি নিয়ে বাজার বন্ধ হয়।

অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১.১৭ ডলার বা ১.৬ শতাংশ বেড়ে ৭২.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। আগের সেশনে এই তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতামত ও ভবিষ্যত ঝুঁকি

এই ব্যাপারে বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইজি-র বিশেষজ্ঞ টনি সিকামোর রয়টার্সকে বলেন, "আপাতত উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ এবং ইরান এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি ততই বাড়বে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের দামেও উর্ধ্বগতি

এদিকে গতকাল জ্বালানি তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি তাদের স্থাপনায় সামরিক হামলার খবর নিশ্চিত করে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা গ্যাসের বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে, যা দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, যদি এই সংঘাত আরও তীব্র হয়, তাহলে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।