যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির শনিবার রাতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত জাহাজগুলো ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) থেকে ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি (ভিএইচএফ) বেতার বার্তার মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাচ্ছে যে এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত। এটি পারস্য উপসাগরে প্রবেশের একমাত্র সামুদ্রিক পথ, যার এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। এই জলপথ পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর হয়ে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ—প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে পরিবহণ করা হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও এই পথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়, যা বৈশ্বিক শক্তি বাজারের জন্য অপরিহার্য।
বিশ্লেষকদের সতর্কতা
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রণালি অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজও জানিয়েছে, সরবরাহ বিঘ্নিত হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৫ থেকে ১১০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একই তথ্য জানিয়েছে, যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এমন কোনো নির্দেশের কথা নিশ্চিত করেনি। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের সম্ভাবনা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুতর পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
এই ঘটনা শুধুমাত্র জ্বালানি বাজারেই নয়, বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাও বৃদ্ধি করতে পারে, যা একটি স্থিতিশীল পরিবেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
