এলডিসি উত্তরণ পিছানোর বাংলাদেশের আবেদন পর্যালোচনা শুরু করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট
এলডিসি উত্তরণ পিছানোর আবেদন পর্যালোচনা শুরু করেছে জাতিসংঘ

এলডিসি উত্তরণ পিছানোর আবেদন পর্যালোচনা শুরু করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট

বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার যে আবেদন করা হয়েছে, তার পর্যালোচনা শুরু করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট (সিডিপি)। এই বিষয়ে সিডিপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল রাতে প্রথম আলোকে এ তথ্য দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সিডিপির বৈঠক ও বাংলাদেশের আবেদনের প্রক্রিয়া

গত সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) বৈঠক শুরু হয়েছে। এই বৈঠকে অংশ নিতে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি সিডিপির এনহ্যান্স মনিটরিং মেকানিজম (ইএমএম) উপকমিটির প্রধান এবং সিডিপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করেন যে, ইএমএম কাঠামোর মধ্যে 'ক্রাইসিস বাটন' নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। যদি কোনো দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বা অভাবিত কোনো ঘটনা ঘটে, তখন এই সুযোগ ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের আবেদন দেওয়ার মাধ্যমে মূলত এই 'ক্রাইসিস বাটন' চেপে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের আবেদন এখন এই ক্যাটাগরির আওতায় বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, অভাবিত কিছু ঘটেছে কি না বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।

সিডিপির সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী ধাপ

বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিপি শেষমেশ কী সিদ্ধান্ত নেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আবেদন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার পরই কেবল এ বিষয়ে বলা যাবে। আবার সিডিপি সিদ্ধান্ত নিলেই সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায় তা নয়; এরপর তা ইকোসোক (জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ) এবং তারপর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যাবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর আবেদন করা হবে না। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই এই আবেদন করে দিয়েছে, যা বর্তমানে সিডিপির কাছে বিবেচনাধীন রয়েছে।

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি ও মানদণ্ড

বাংলাদেশের প্রস্তুতি তিন বছর অন্তর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন হয়। এই মূল্যায়নে তিনটি প্রধান সূচক বিবেচনা করা হয়:

  • মাথাপিছু আয়
  • মানবসম্পদ সূচক
  • জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক

এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না। উত্তরণের জন্য যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হতে হয়, অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড অবশ্য পরিবর্তিত হয়।

বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে:

  1. মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই)
  2. মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই)
  3. অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক (ইভিআই)

২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। তবে করোনা মহামারির কারণে উত্তরণ দুই বছর পিছিয়েছে। এখন নতুন আবেদনের মাধ্যমে উত্তরণ আরও তিন বছর পিছানোর চেষ্টা চলছে, যা জাতিসংঘের সিডিপি বর্তমানে পর্যালোচনা করছে।