আইএমএফের উচ্চপর্যায়ের দল মার্চে ঢাকায়, ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে আলোচনা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী মার্চ মাসে ঢাকায় আসছে বাংলাদেশের ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ৯-১০ মার্চ তিন সদস্যের এই আইএমএফ দল ঢাকা সফরে আসবে। এই সফরের সময় প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবে এবং চলমান ঋণ কর্মসূচি সচল রাখার পাশাপাশি বিলম্বিত ১৩০ কোটি ডলার ছাড়ের বিষয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব ও আগমন
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। গত ডিসেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইএমএফ একটি কিস্তি ছাড় স্থগিত রেখেছিল, এবং সংস্থাটি তখন জানিয়েছিল যে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী অর্থ ছাড় করা হবে। এই আলোচনা যদি ফলপ্রসূ হয় এবং বিএনপি সরকার শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে আগামী জুন মাসের মধ্যে পরবর্তী কিস্তির অর্থ পাওয়া যেতে পারে।
ঋণ কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা
আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা সফল হলে ডিসেম্বরের বকেয়া কিস্তি এবং পরবর্তী নির্ধারিত কিস্তি একসঙ্গে ছাড় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরও জানান, কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয় অপেক্ষমাণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা। আইএমএফের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ভর্তুকি কমানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ করা।
নতুন সরকারের সংস্কার ও আইএমএফের শর্ত
নতুন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বিভিন্ন সংস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে, এবং এবারের আইএমএফের বৈঠকে এই সংস্কারগুলোর সঙ্গে আইএমএফের কর্মসূচির সমন্বয় কীভাবে হবে সে বিষয়গুলো উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি করে।
ঋণ চুক্তির বিবরণ ও বিতরণ
এই ঋণ কর্মসূচির শর্তের মধ্যে রাজস্ব খাত সংস্কার, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন এবং ভর্তুকি কমানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে গত বছরের জুন মাসে আইএমএফ কর্মসূচির মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৮০ কোটি ডলার যুক্ত করে, যার ফলে মোট ঋণ প্যাকেজ ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন (৫৫০ কোটি) ডলারে দাঁড়ায়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পাঁচটি কিস্তিতে মোট ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে, যার মধ্যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, একই বছরের ডিসেম্বরে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০২৪ সালের জুনে ১১৫ কোটি ডলার এবং ২০২৫ সালের জুনে ১৩৩ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। ফলে এখনো ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার বাকি রয়েছে, এবং এই পরিমাণ অর্থ ছাড়ের জন্য আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
