ট্রাম্পের ইরান হামলার হুমকিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, মার্কিন ভোটারদের পকেটে চাপ
ইরান হামলার হুমকিতে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, মার্কিন ভোটারদের পকেটে চাপ

ইরান হামলার হুমকিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, মার্কিন ভোটারদের পকেটে চাপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। এই হামলার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন জনগণের পকেটে, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি ও হরমুজ প্রণালির হুমকি

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের ‘১০ দিনের সময়সীমা’র হুঁশিয়ারির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়চড় করে বাড়ছে। বুধবার বিশ্ববাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম গত এক মাসে ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার বেড়েছে।

ইরানের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথ দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিশ্বের বাকি অংশে তেল পাঠানোর একমাত্র পথ এটি। সম্প্রতি ইরান সামরিক মহড়ার জন্য এই পথ আংশিক বন্ধ করায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৫ ডলার বেড়ে গিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের সতর্কতা ও রাজনৈতিক প্রভাব

টর্টয়েজ ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও ম্যানেজার রব থামেল সতর্ক করে বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা তৈরি হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, তেল রফতানি থেকে আয়ের ওপর ইরান সরকার নিজেই নির্ভরশীল।

আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আবাসন খাতের মন্দার কারণে রিপাবলিকানরা এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে তেলের দাম বাড়লে তা সাধারণ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে। ট্রাম্প গত কয়েক মাস ধরে তেলের দাম কমার যে কৃতিত্ব দাবি করে আসছিলেন, ইরান সংঘাত তা নস্যাৎ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

মার্কিন ভোটারদের অর্থনৈতিক চাপ

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার। তেলের দাম ব্যারেলে ৮০ ডলার হলে পেট্রোলের দাম ৩ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যদিও ট্রাম্প তেলের দাম কমার কারণে সাধারণ মানুষের বছরে ১০০ থেকে ২০০ ডলার সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করেন, কিন্তু তার আরোপিত শুল্কের কারণে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে গড়ে ১ হাজার ডলার বাড়তি কর গুনতে হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ টুটল বলেন, “কম দামে পেট্রোল পাওয়াটা আরামদায়ক ছিল, কিন্তু দাম এখন ধীরে ধীরে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে তেলের দাম বাড়লে মার্কিনীদের অর্থনৈতিক অসন্তোষ আরও চরম আকার ধারণ করবে।”

ইরানের তেল উৎপাদন ও সম্ভাব্য পরিণতি

ওপেক-এর তথ্যমতে, ইরান প্রতিদিন গড়ে ৩২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্ব উৎপাদনের ৪ শতাংশ। বিপুল নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বড় ছাড় দিয়ে তেল রফতানি অব্যাহত রেখেছে। এখন ট্রাম্পের একটি সামরিক পদক্ষেপ যদি এই সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করে, তবে তার ফলাফল ইরানের চেয়েও ট্রাম্পের নিজের দেশের ভোটারদের কাছে বেশি তিক্ত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি শুধু অর্থনৈতিক সংকটই নয়, বরং মার্কিন রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।