ভারত-ব্রাজিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দুর্লভ মৃত্তিকা সহযোগিতা চুক্তিতে একমত
ভারত-ব্রাজিল খনিজ সহযোগিতা চুক্তিতে একমত

ভারত-ব্রাজিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দুর্লভ মৃত্তিকা সহযোগিতা চুক্তিতে একমত

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দুর্লভ মৃত্তিকা বিষয়ক সহযোগিতা বাড়াতে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) একমত হয়েছে ভারত ও ব্রাজিল। নয়াদিল্লিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল করতে বড় পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দুর্লভ মৃত্তিকা বিষয়ক চুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলকে স্থিতিশীল করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইলেকট্রিক যান, সোলার প্যানেল, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে জেট ইঞ্জিন ও গাইডেড মিসাইল—সবকিছুতেই ব্যবহৃত হয় এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। বিশ্বে এর দ্বিতীয় বৃহত্তম মজুদ রয়েছে ব্রাজিলে, যা এই সহযোগিতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়াস

শীর্ষ রপ্তানিকারক চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত দেশীয় উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং নতুন সরবরাহকারী খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের সঙ্গে চুক্তিটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই আমাদের স্বাক্ষর করা যুগান্তকারী চুক্তির মূল বিষয়

চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি

তবে ভারত-ব্রাজিলের এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার ডিজিটাল সহযোগিতা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও নয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে। এই চুক্তিগুলো দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্য

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ল্যাটিন আমেরিকায় ব্রাজিল ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা এই লক্ষ্য অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ব্রাজিল ভারতে প্রধানত চিনি, অপরিশোধিত তেল, উদ্ভিজ্জ তেল, তুলা ও লৌহ আকরিক রপ্তানি করে। নতুন এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।