মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহণ খরচ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ভাড়া ৪ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে
তেল পরিবহণ খরচ ইতিহাসের সর্বোচ্চ, ভাড়া ৪ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে

মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহণ খরচ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে

আন্তর্জাতিক তেল বাজারে একটি অভূতপূর্ব রেকর্ড তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে অপরিশোধিত তেল পরিবহণের জন্য সুপারট্যাঙ্কারের ভাড়া ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে গেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশ করেছে যে, এই ভাড়া এখন চার লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

ভাড়া বৃদ্ধির পেছনের কারণ

গত সপ্তাহে এই ভাড়া মাত্র দুই লাখ ডলারের কাছাকাছি ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই আকস্মিক বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে আঞ্চলিক উত্তেজনা। আমেরিকা কর্তৃক ইরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে শুরু করে। সেই উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি পড়েছে তেল পরিবহণ খরচের উপর।

ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করেছে। এই প্রণালীটি ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। বিশ্বব্যাপী তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই সম্পন্ন হয়। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহণ খরচও ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।

বিশ্ব তেল বাজারে প্রভাব

সবচেয়ে বড় আকারের তেলবাহী জাহাজগুলো, যেগুলোকে সুপারট্যাঙ্কার বলা হয়, সেগুলোই এই রেকর্ড পরিমাণ ভাড়া দিচ্ছে। প্রতিটি সুপারট্যাঙ্কারে প্রায় বিশ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল বহন করা সম্ভব। যখন এই বিশালাকার জাহাজগুলোর ভাড়া বেড়ে যায়, তখন তা সরাসরি বিশ্ব তেল বাজারে চাপ সৃষ্টি করে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বীমা খরচ বৃদ্ধি পাওয়াও এই খরচ বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। তেল পরিবহণ কোম্পানিগুলোকে এখন উচ্চতর ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে তাদের অপারেশনাল খরচও বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী তেলের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল পরিবহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠায় চীনসহ অন্যান্য তেল আমদানিকারক দেশগুলোকে বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য করা হতে পারে। এই সংকট কতদিন স্থায়ী হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এখন বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা চলছে।