সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগার বন্ধ, ইরান সংঘাতে জ্বালানি বাজারে ধাক্কা
ইরান সংঘাতে সৌদি তেল শোধনাগার বন্ধ, জ্বালানি বাজারে ধাক্কা

ইরান সংঘাতে সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগার বন্ধ, জ্বালানি বাজারে ধাক্কা

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের বৃহৎ রাস তানুরা তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে সৌদি আরামকো। সোমবার (২ মার্চ) রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এই খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছায়।

আরামকোর মিডিয়া অফিসের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি আরামকোর মিডিয়া অফিস। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। সেখানে কার্যত বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক স্থবিরতা

ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালী বন্ধ না করলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজ মালিকরা নিজেরাই চলাচল স্থগিত রেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ বৈশ্বিক তেলবাজারের জন্য এক নতুন ও ঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

সংঘাতের পটভূমি ও হামলার ধারাবাহিকতা

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং একই সঙ্গে দেশটির জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের আহ্বান জানায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাতের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন।

বৈশ্বিক প্রভাব ও অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে শুধু নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এই সংঘাতের প্রভাব কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।