যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বৈষম্যমূলক: সিপিডির গবেষণা পরিচালকের তীব্র সমালোচনা
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিটিকে চরমভাবে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, 'চুক্তির শর্ত দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। সরকারের উচিত এই চুক্তি থেকে সরে আসা।'
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা
আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। 'নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিন ও তারপর' বিষয়ে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, 'শেষ পর্যন্ত যে চুক্তি হয়েছে, তা দেখে আমরা হতভম্ব, আমরা স্তম্ভিত। এ ধরনের একটি চুক্তি কীভাবে একটি অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারল বা এই দায় কীভাবে একটি নির্বাচিত সরকারের কাঁধে দিতে পারল, তা বোধগম্য নয়।'
চুক্তির বৈষম্যমূলক ধারাসমূহের উল্লেখ
তিনি চুক্তির বেশ কয়েকটি বৈষম্যমূলক ধারার উল্লেখ করেন:
- বাংলাদেশ যদি তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে চায়, তবে সেটি মার্কিন মানদণ্ডের সঙ্গে সমান না হলে চুক্তি করতে পারবে না।
- যুক্তরাষ্ট্রের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দেশীয় সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সমান সুযোগ দিতে হবে।
- বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা মার্কিন সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সমান হতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, 'বাংলাদেশ যদি তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্যচুক্তি করতে চায়, তবে সেটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে সেটিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।'
অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় বাধা ও উত্তরণের সম্ভাবনা
তিনি সতর্ক করে বলেন, 'আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নীতি সিদ্ধান্তের স্বাধীনতার জায়গায় এই চুক্তি একটা বড় বাধা মনে হয়েছে। এটি আমাদের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মসৃণ উত্তরণকে ব্যাহত করবে।'
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, 'এ চুক্তি থেকে আমাদের সরে আসার সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা এসেছে।'
গোলাম মোয়াজ্জেমের পরামর্শ হলো, 'নির্বাচিত সরকারের উচিত হবে, বিদ্যমান চুক্তি থেকে বের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে আলোচনা করা, যেখানে উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ হবে।'
