বিশ্ববাজারে সোনার দামে কিছুটা সংশোধন
টানা কয়েক দিন বৃদ্ধির পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। তবে মঙ্গলবার সোনার স্পট মূল্য প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়, যা বাজার বিশ্লেষকদের মতে একটি স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দামের হেরফের ও বর্তমান অবস্থা
সোমবার সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৩০ ডলার। মঙ্গলবার সকালে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সোনার দাম ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১৭৬ ডলারে নেমে এসেছে। রয়টার্স কমোডিটি মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, এই সংশোধন সত্ত্বেও সোনার দামের সামগ্রিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
অনিশ্চয়তা ও সোনার চাহিদা
বিশ্ববাজারে যখনই অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখনই সোনার দাম বাড়তে শুরু করে। বিনিয়োগের নিরাপদ খাত হিসেবে পরিচিত সোনায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে বেশি করে বিনিয়োগ করেন, যা দামকে ঊর্ধ্বমুখী করে তোলে। সম্প্রতি ট্রাম্পের শুল্ক নীতির মতো রাজনৈতিক ঘটনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা সোনার দামকে প্রভাবিত করছে।
সোনার দামের সাম্প্রতিক প্রবণতা
গত এক বছর ধরে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ২০২৫ সালে সোনার স্পট মূল্য প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলার, যা বছরের শেষে ৪ হাজার ৩০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। চলতি বছরের শুরুতে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং ২৯ জানুয়ারি প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৯৪ ডলার ৮২ সেন্টে পৌঁছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
ভবিষ্যত পূর্বাভাস
বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার কারণে সোনার দামে কিছুটা সংশোধন হলেও চলতি বছর মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।
- এলএমবিএ জরিপ: লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক পূর্বাভাস জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, গড় দাম হতে পারে ৪ হাজার ৭৪২ ডলার।
- গোল্ডম্যান স্যাকস: বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস তাদের পূর্বাভাস বৃদ্ধি করে বলেছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে সোনার দাম ৫ হাজার ৪০০ ডলারে উঠতে পারে, আগের পূর্বাভাস ছিল ৪ হাজার ৯০০ ডলার।
- স্বাধীন বিশ্লেষক: রস নরম্যান মনে করেন, চলতি বছর সোনার দাম সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, গড় দামের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বাভাস ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে একমাত্র নিশ্চিত বিষয় হলো অনিশ্চয়তা, যা সোনার পালে হাওয়া দিচ্ছে।
এপ্রিলে ইউএস গোল্ড ফিউচারের সরবরাহ ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ২১৯ ডলার প্রতি আউন্স, যা সোনার চাহিদার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। একই সঙ্গে রুপার দামও অনেকটা বেড়েছে, যা মূল্যবান ধাতুর বাজারের সামগ্রিক শক্তিশালী অবস্থাকে তুলে ধরে।
