মার্কিন শুল্ক সিদ্ধান্ত বাতিলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ, বাংলাদেশেও প্রভাবের আশঙ্কা
মার্কিন শুল্ক বাতিলে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ, বাংলাদেশেও প্রভাব

মার্কিন শুল্ক সিদ্ধান্ত বাতিলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ স্তরে

গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দেখা দিয়েছে। এই ঘটনার প্রভাবে মার্কিন ডলারের দাম কিছুটা কমলেও, বিশ্ববাজারে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,১৬৩.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, এপ্রিলে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ শতাংশ বেড়ে ৫,১৮৪.৯০ ডলারে উঠেছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক সংকেত

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে ব্যবসায়ীরা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকি কিছুটা কমেছে, তবুও ডলারের মান কমে যাওয়ায় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চীনের চন্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে সোমবার লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কম থাকলেও, বাজারে অস্থিরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও ডলারের মান বিশ্লেষকরা বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে সীমিত করলেও এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটায়নি।

ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা

সিএমই’র ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি বছর ফেডারেল রিজার্ভ তিনবার সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়েছে। এছাড়া ইরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার সংকেত বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি থামেনি। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি

শুধু স্বর্ণ নয়, রুপা ও প্লাটিনামের দামও সোমবার লাফিয়ে বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ৩.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৭.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এছাড়া প্লাটিনাম ১.২ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর চাহিদার প্রবলতা নির্দেশ করে।

বাংলাদেশের বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্ববাজারে এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব খুব দ্রুতই স্থানীয় বাজারে সমন্বয় করা হবে। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস দেশে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল। বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২,৫৮,৮২৪ টাকায় এবং প্রতি ভরি রুপা ৬,৭০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশ্ববাজারের বর্তমান চিত্র বলছে, খুব শিগগিরই এই দাম নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে, যা বাংলাদেশের ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রভাব ও সতর্কতা

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ডলারের মান কমে যাওয়া এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা স্বর্ণের দামকে আরও বাড়াতে পারে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।