কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচ নিহত

কুমিল্লায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচ জন নিহত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যখন একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ঘটনাটি ঘটেছে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে। সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর শ্বশুরবাড়ি থেকে ঢাকার দিকে যাত্রা করা একটি প্রাইভেটকার যখন বুড়িচং উপজেলার কালাককুয়া এলাকার মিয়ামি হোটেলের সামনে পৌঁছায়, তখন পেছন থেকে আসা ‘স্টার লাইন’ নামের একটি বাস সজোরে ধাক্কা দেয়। এই প্রচণ্ড ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চার জন নিহত হন।

নিহতদের মধ্যে চার জনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের করুণ আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিহতদের লাশ সকালে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে এবং শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহত ও আহতদের পরিচয়

নিহতরা হলেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের ভগ্নীপতি মুফতি আব্দুল মমিন
  • তার বোন ঝর্ণা বেগম
  • ভাগনি লাবিবা
  • ভাগনে আবরার
  • প্রাইভেটকার চালক জামাল (পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি)

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত মুফতি আবদুল মমিন তার পরিবার নিয়ে লক্ষ্মীপুরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। ঢাকায় চাকরির সুবিধা থাকায় ঈদ উপলক্ষে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র শিশু আবরার (১২) মারাত্মক আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম

খবর পেয়ে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। আহত দুই জনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আরশাদ নামের একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল মবিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসের চালক পালিয়ে গেলেও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক চালককে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এবং পরিবারটির শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে।