পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু: নেসকোর গাফিলতির অভিযোগে উত্তাল এলাকা
পঞ্চগড়ে বৈদ্যুতিক সংযোগ সংস্কারকাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে পঞ্চগড় পৌরসভার ধাক্কামারা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শাহীন আলম (৩৫) তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) পঞ্চগড় কার্যালয়ে লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে কয়েকজন বিদ্যুৎকর্মী জেলা শহরের ধাক্কামারা গোলচত্বর এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন সংস্কারের কাজ করতে যান। এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। শাহীন আলম মই দিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি ঝুলে থাকেন।
এ সময় তাঁর মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। খবর পেয়ে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন, যা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলে।
স্বজন ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ
কাজ করার সময় শাহীন আলমের মৃত্যুর খবর শুনে শহরে ছুটে আসেন তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী। তাঁরা অভিযোগ করেন যে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করার সময় বিদুৎ সরবরাহ চালু করে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নেসকো কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ এনে নেসকো কার্যালয়ের সামনে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিক্ষোভকারীরা এ ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে নেসকো কার্যালয়ের সামনে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই অবরোধে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সমাধানের প্রতিশ্রুতি
এর মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে নেসকো কার্যালয়ে যান। সেখানে শাহীন আলমের স্বজনদের নিয়ে আলোচনা শেষে রাত পৌনে আটটায় তাঁরা বের হন।
ইউএনও ফাহমিদা সুলতানা বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এমন মৃত্যু কারও কাম্য নয়। এতে আমরাও মর্মাহত। নেসকো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় শাহীন আলমের স্ত্রীকে তাঁরা এই কার্যালয়ে একটি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁরা প্রাথমিকভাবে ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেবেন। এ ছাড়া লাশ দাফনের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অবরোধ প্রত্যাহার ও পরিস্থিতির শান্তি
এই ঘোষণার পর ইউএনও বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করতে বললে রাত আটটার দিকে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান। এলাকায় আবারও স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল শুরু হয়, তবে শাহীন আলমের মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোক রয়ে গেছে।
এই ঘটনা পঞ্চগড়ে নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে সতর্কতা জরুরি করে তুলছে।



