নাটোরে বড়াইগ্রামে কিশোরীর আত্মহত্যা: জোরপূর্বক বিয়ের চাপে মৃত্যুর সন্দেহ
নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল কোয়ার্টারের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত কিশোরী বড়াইগ্রাম পৌর শহরের বাসিন্দা এবং ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চুক্তিভিত্তিক এক বাবুর্চির ছোট বোন হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত কিশোরী তার বোনের সঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারেই বসবাস করত। গতকাল বোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই কিশোরী ঘরে একা ছিল। পরে বিকেলে স্বজনেরা নিজ কক্ষে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পারিবারিক কলহ ও জোরপূর্বক বিয়ের চাপ
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বেশ কিছুদিন ধরে এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা তা মেনে নেননি। বরং কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে তার ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পারিবারিক এই কলহ ও চাপকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।"
এই ঘটনা সমাজে জোরপূর্বক বিয়ে ও পারিবারিক চাপের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা কিশোরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার কামনা করেছেন। পুলিশ বলেছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



