ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হত্যা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ
ইবি শিক্ষক হত্যা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় অবরোধ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হত্যা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর রেলগেট এলাকায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হয়েছে। স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে এই অবরোধ পালন করা হয়, যা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে স্থায়ী ছিল।

বিক্ষোভ ও যানজটের সৃষ্টি

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মজমপুর রেলগেট এলাকায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। এই অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় যানবাহন চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায়। অবরোধ শেষে বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। বিক্ষোভের মুখে পরিবার ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শওকত মো. হাসান ইমাম। তিনি তাঁদের দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেন এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত করেন।

হত্যা মামলার পটভূমি

গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দপ্তরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে ওই কক্ষ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন গভীর রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় আসমার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান একটি হত্যা মামলা করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, বিভাগের দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশে কর্মচারী ফজলুর রহমান তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে, তবে তাদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার ২ নম্বর আসামি বিশ্বজিৎ কুমার উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার, যাকে কিছুদিন আগে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে বদলি করা হয়। এ ছাড়া ৩ ও ৪ নম্বর আসামি যথাক্রমে সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান। শ্যাম সুন্দর আগে আসমা সাদিয়ার বিভাগের সভাপতি ছিলেন বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ

প্রায় এক মাস হয়ে গেলেও হত্যা মামলার অন্য তিন আসামিকে গ্রেপ্তার না করায় বিক্ষোভ করেন আসমার পরিবারের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ সমাবেশে আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতানসহ চার সন্তান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। নিহত আসমার সন্তানেরা ‘মাকে এনে দাও’, ‘মা তুমি কোথায়?’, ‘শ্যাম সুন্দর, সুন্দর না, এটা খুনি’, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি লেখাসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মামলার আসামি বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্টে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এখনো তাঁদের গ্রেপ্তার করছে না। শুধু প্রধান আসামি ফজলুরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অন্যদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অসহযোগিতা করছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, ‘আমার স্ত্রী মৃত্যুর আগে যে ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন, মৃত্যুর পরে সেই ষড়যন্ত্রের এখন বাস্তবায়ন হতে চলছে। প্রশাসন এই ফজলুরকে দিয়ে একক সিদ্ধান্তের একটা নীলনকশা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে। বিশ্বজিৎ, শ্যাম সুন্দর সরকারসহ যাঁদের বিরুদ্ধে আমার লিখিত অভিযোগ আছে, তাঁরা বিভাগের অর্থ তছরুপ করেছে। সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

মামলার তদন্ত–সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মামলার এজাহারে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্তে তাঁদের সম্পৃক্ততা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে ঘটনার দিন থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল, এবং গত মঙ্গলবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর রিমান্ড চাওয়া হয়েছে, তবে কোনো শুনানি এখনো হয়নি।