নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে হেলমেট পরে ক্লাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী
নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে হেলমেট পরে ক্লাসে দুই শিক্ষার্থী

নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকী প্রতিবাদে হেলমেট পরে ক্লাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ভবনের ছাদের পলেস্তারা ধসে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার মাত্র এক দিন পর, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে এক অভিনব ও প্রতীকী প্রতিবাদ দেখালেন গণিত বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকালে নাঈম ও মাহমুদুল হাসান নামের এই দুই শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলের হেলমেট মাথায় দিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলে পুরো ক্যাম্পাসে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

প্রতিবাদের পেছনের কারণ

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সেমিনার কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল নামের দুই শিক্ষার্থী আহত হন। এই দুর্ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক অবহেলা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরের দিনই নাঈম ও মাহমুদুল হাসান তাদের এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপের মাধ্যমে নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে সরব হন।

গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘গতকাল ছাদের পলেস্তারা পড়ে আমাদের সহপাঠীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ আমি ক্লাসে বসেও নিজেকে নিরাপদ মনে করছি না। তাই নিজের নিরাপত্তার জন্যই হেলমেট পরেছি, আর এটা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণেরও একটি চেষ্টা।’ তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া

নাঈম ও মাহমুদুলের সহপাঠী তানজিম আহমেদ মিথিল এই প্রতিবাদকে হাস্যকর না বলে বরং বাস্তবতার কঠিন প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো মজা নয়, বরং আমরা সত্যিই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি তারই প্রকাশ।’ ক্যাম্পাসে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, অনেক শিক্ষার্থীই এই প্রতিবাদের পক্ষে তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গণিত বিভাগের ১১৯, ১২০ ও ১২১ নম্বর কক্ষ তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে সেখানে মিড ও শ্রেণি পরীক্ষা চলছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, অধ্যাপক নিজেও স্বীকার করেন, ‘আমি যে রুমে বসে আছি সেটিও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু দায়িত্ববোধ থেকে এখনো সেখানেই অবস্থান করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ রুমগুলোতে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে এবং অবকাঠামোগত সংস্কার দ্রুত কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। তবে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের উদ্বেগ ও ভয় কাটবে না। এই ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের দাবি জোরদার করেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও নিরাপত্তাহীনতার একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল প্রতিবাদ প্রশাসনের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিও আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।