জবিতে হেলমেট পরে ক্লাস: নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকী প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাদের পলেস্তারা ধসে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার একদিন পরই নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে হেলমেট পরে ক্লাস করতে এসেছেন দুইজন শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম এবং নয়ন হেলমেট পরে ক্লাসে অংশ নেন। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবাদের পেছনের কারণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ক্লাস শুরুর আগে দুইজন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলের হেলমেট মাথায় দিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। প্রথমে বিষয়টি অনেকেই মজা হিসেবে নিলেও পরে জানা যায়, এটি মূলত নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ। শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, গতকাল আমাদের সহপাঠীদের ওপর ছাদের পলেস্তারা পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। আজ আমি ক্লাসে বসে নিরাপদ বোধ করছি না। তাই নিজের নিরাপত্তার জন্যই হেলমেট পরে এসেছি, একই সঙ্গে এটি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি চেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, যদি ক্লাসরুমেই জীবন ঝুঁকিতে থাকে, তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ? দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে। সহপাঠীদের অনেকেই তার এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিথিল বলেন, এটি হাস্যকর নয়, বরং আমাদের বাস্তবতার প্রতিফলন। আমরা সত্যিই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে অবহিত করেছি এবং তারা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সেই সঙ্গে ১১৯, ২০, ২১ নম্বর কক্ষসমূহ তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ, তাই মিড ও ক্লাস পরীক্ষা চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, আমি যে রুমে বসে আছি সেটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, দায়িত্ববোধ থেকে এখনো অবস্থান করছি।
ঘটনার পটভূমি
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সেমিনার কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ঝুঁকি ও প্রশাসনিক অবহেলা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ক্যাম্পাসে হেলমেট পরে ক্লাসে অংশ নেওয়ার এই ঘটনা এখন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা সংকটের তীব্রতা প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই প্রতীকী প্রতিবাদ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবকাঠামোগত উন্নয়নে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



