ঈদযাত্রায় পাথর নিক্ষেপে আহত ছয়, সিল্ক সিটি ট্রেনে সহায়তার অভাব নিয়ে অভিযোগ
পাথর নিক্ষেপে আহত ছয়, সিল্ক সিটি ট্রেনে সহায়তার অভাব

ঈদযাত্রায় পাথর নিক্ষেপে আহত ছয় যাত্রী, সিল্ক সিটি ট্রেনে সহায়তার অভাব নিয়ে তীব্র অভিযোগ

ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে, যাতে এক শিশুসহ মোট ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পাবনা জেলার বড়াল ব্রিজ স্টেশনে ট্রেনটি প্রবেশের ঠিক আগে এই ঘটনা সংঘটিত হয়। আহত যাত্রীরা সবাই ট্রেনের ‘ঘ’ বগিতে অবস্থান করছিলেন, যেখানে একটি জানালায় বিকট শব্দের পর কাচ ভেঙে ট্রেনের কামরার ভেতরে ছিটকে পড়ে। কাচের কুচির আঘাতে শিশুসহ ছয়জন আহত হন, যারা ঈদের ছুটিতে পরিবারের সাথে বাড়ি ফিরছিলেন।

আহত যাত্রীদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক হাবিবুল আউয়াল (২৬), ফার্মাসিস্ট শফিকুল ইসলাম (৪৫), ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান (৩০), কাউসার আলী (২৫), জিয়াউর রহমান (৪৫) এবং মাত্র তিন বছরের শিশু রায়ান। হাবিবুল আউয়াল, যিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এবং রাজশাহী নগরের শালবাগান এলাকার বাসিন্দা, তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আহত ব্যক্তিদের অনেকেরই বেশ ব্লিডিং (রক্তপাত) হয়েছে, এবং আমরা নানাভাবে রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেছি। যারা ছোটখাটো আহত হয়েছেন, তাদের রক্তের দাগ শুকিয়ে গেছে, কিন্তু ক্ষত এখনো রয়েছে।"

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সহায়তা না পাওয়ায় তীব্র অভিযোগ

ঘটনার পরপরই আহত যাত্রীরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাবিবুল আউয়াল অভিযোগ করেন যে, রেলের কল সেন্টার ১৩১ নম্বরে বারবার ফোন দেওয়া সত্ত্বেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরেও ফোন করেছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে তাকে আবার ১৩১ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ট্রেনের টিকিটে দেওয়া হটলাইন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন কেটে দেওয়া হয়, যা যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরো বলেন, "আমরা ট্রেনের ক্যাটারিং সার্ভিসের এক কর্মীকে রেলওয়ে পুলিশ ও গার্ডকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করি, কিন্তু প্রায় ২০ মিনিট পর রেলওয়ে পুলিশের একজন সদস্য আসেন এবং তিনি আরেকজনের ওপর দায়িত্ব দিয়ে চলে যান।" অন্যদিকে, সিল্ক সিটি ট্রেনে গার্ডের দায়িত্বে থাকা মশিউর রহমান দাবি করেন যে, ট্রেন ইতিমধ্যেই রাজশাহী স্টেশনে এসে পৌঁছেছে এবং এই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা তাকে কেউ জানায়নি, যা ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

এই ঘটনা ঈদযাত্রার সময় ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পাথর নিক্ষেপের মতো ঘটনা ক্রমাগত রেলপথে সংঘটিত হচ্ছে, যা যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনায় আহত যাত্রীরা যথাযথ চিকিৎসা ও সহায়তা পেতে পারেন। এই ঘটনায় আহত শিশু রায়ানের মতো কোমল প্রাণের উপস্থিতি আরো বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে পরিবহন নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির দাবি জানাচ্ছে।