ঈদযাত্রায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট নেই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উন্নয়নকাজ চলমান
ঈদযাত্রায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট নেই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাজ চলছে

ঈদযাত্রায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজটমুক্ত পরিবেশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উন্নয়নকাজ চলমান

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩৪ কিলোমিটার অংশে যানবাহনের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আজ বুধবার রাত সাতটা পর্যন্ত এই মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে। হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ছুটির কারণে লোকজন ধীরে ধীরে ঢাকা ছাড়ছেন এবং পুলিশ প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

আশুগঞ্জ ও সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে উন্নয়নকাজের মধ্যেও যান চলাচল

মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ টোল প্লাজা থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশে দুটি বড় গোলচত্বর অবস্থিত। এই সংকীর্ণ মহাসড়কে সাত বছর ধরে চলমান উন্নয়নকাজের জন্য গোলচত্বর দুটি একদিকে সংকীর্ণ এবং অন্যদিকে খানাখন্দে ভরা। এরপরও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় যানবাহন চলছে স্বাভাবিকভাবে। আজ বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে পূর্ব দিকে আধা কিলোমিটার পর্যন্ত স্থানে বাঁ পাশে উন্নয়নকাজ চলছে, ফলে ডান পাশের এক-চতুর্থাংশ দিয়ে দূরপাল্লারসহ ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত অংশে খানাখন্দ ও গর্ত থাকলেও কোথাও যানজট দেখা যায়নি।

সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে যান চলাচল উন্মুক্ত

সরাইল বিশ্বরোড মোড়টি ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানেও উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। আজ বিকেলে পাথর-বালু দিয়ে তৈরি সিলেট থেকে ঢাকামুখী অংশটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এই অংশ দিয়ে সব ধরনের যানবাহন ধীরগতিতে চললেও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। হাইওয়ে পুলিশের সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করীম সরাইল বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরে অবস্থান করে বলেন, ‘আমাদের আশার চেয়েও মহাসড়কের অবস্থা ভালো। মহাসড়ককে যানজটমুক্ত রাখতে আমি ১২ মার্চ থেকে এখানে অবস্থান করছি। মহাসড়কের অবস্থা ভালো নয়, এরপরও যানজটমুক্ত রাখতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এটিকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।’

আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন প্রকল্পের অগ্রগতি

সড়ক ও জনপথ, প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতকে দেওয়া ট্রানজিট সুবিধার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ সাত বছর ধরে চলছে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে কাজটি করছিল ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড, তবে শুরু থেকেই কাজটি ধীরগতিতে চলছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিকবার কাজ বন্ধ হয় এবং গত বছরের শেষের দিকে ৩ নম্বর প্যাকেজের কাজ প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়।

আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন প্রকল্পের সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশের (প্যাকেজ-১) প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোস্তাকুর রহমান ভূঁইয়া আজ সন্ধ্যায় বলেন, ‘ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে দুটি গোলচত্বরের কাজ চলমান থাকবে। এর মধ্যে আজ সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে সিলেটমুখী পাথর-বালির অংশটুকু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আশুগঞ্জ গোলচত্বরের অংশটুকুও যান চলাচলের উপযুক্ত করে রাখা আছে। হাইওয়ে পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে আমরা তা–ও উন্মুক্ত করে দিতে পারব।’

এই পরিস্থিতিতে, পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এবং উন্নয়নকাজের মধ্যেও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা ঈদযাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।