ঝিনাইদহ-৪ আসনে ভোটকেন্দ্রে ফাঁকা রেজাল্ট শিট উদ্ধার, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বরখাস্ত
ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে একটি গুরুতর অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এখানে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর করা ২৩টি ফাঁকা রেজাল্ট শিট উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা এই শিটগুলো জব্দ করেন এবং ঘটনায় জড়িত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জেসমিন আরাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আজ রাতে কালীগঞ্জের সলিমুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এক পোলিং এজেন্ট উপস্থিত হন। এই সময়ে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জেসমিন আরা তাঁর কাছ থেকে ফাঁকা রেজাল্ট শিটে সই করিয়ে নেন। পরবর্তীতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্ট এসে সাতটি রেজাল্ট শিটে সই করেন।
বাইরে এসে ধানের শীষ প্রতীকের ওই পোলিং এজেন্ট ফাঁকা রেজাল্ট শিটে সই করার কথা প্রকাশ করেন। তখন এই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা ঘটনাস্থলে আসেন এবং তদন্ত শুরু করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্য
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা বলেন, "সাধারণত নিয়ম রয়েছে যে ভোট গণনার শেষে এজেন্টরা রেজাল্ট শিটে সই করবেন। কিন্তু প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আগে থেকেই সেটি করিয়েছেন, যেটা সম্পূর্ণরূপে ভুল এবং অনিয়মের শামিল।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই অনিয়মের কারণে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জেসমিন আরাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা উদ্ধারকৃত ২৩টি রেজাল্ট শিট সংরক্ষণ করেছেন এবং আরও তদন্ত চলমান রয়েছে। ভোটের আগে এমন ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা আগামী দিনের ভোটগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
