শ্রীপুরে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার: মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শ্রীপুরে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার অভিযোগ

শ্রীপুরে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার: মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ

গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।

লিখিত অভিযোগ দাখিল

গাজীপুর-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু নিজে উপস্থিত হয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) দুপুরে এ অভিযোগ দেওয়ার পর শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "একটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল এবং উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ তার ফেসবুকে আমার বিরুদ্ধে নানা প্রকার অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।"

অভিযোগের বিবরণ

লিখিত অভিযোগে জানানো হয়েছে, আবুল কালাম আজাদ নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি প্রচারণা এবং প্রার্থীর নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার আইডি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি যৌথবাহিনী ও থানার অফিসার ইনচার্জের বক্তব্য ছাড়াই প্রার্থীর দুই কর্মী ৫ লাখ টাকাসহ আটক হয়েছে মর্মে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে প্রার্থীর মানসম্মান ক্ষুণ্ণ ও সমাজে হেয় করছেন।

প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী, গত রাতে টাকা ও মদসহ আটক রিয়াল ও পায়েল স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘোড়া প্রতীকের কর্মী। তারা মাদককারবারি এবং জুলাই হত্যার মামলাসহ নানা অভিযোগে যৌথবাহিনী কর্তৃক আটক হয়।

অতিরিক্ত অভিযোগ

এছাড়া নির্বাচনের প্রথম থেকেই তিনি জামায়াত ইসলামীর বিভিন্ন মিটিংয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি একজন চাকরিজীবী হয়ে সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করে জামায়াতে ইসলামীর রোকন হিসেবে দলীয় কর্মীর কাজ করে যাচ্ছেন এবং নির্বাচনে একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

শ্রীপুর থানার ওসি নাসির আহমেদ জানান, আটকৃতরা মাদক ব্যবসায়ী এবং তারা কোনো দলের নয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেছেন, তার এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আজকের অভিযোগের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।