ট্রাম্পের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, এই বৈঠকটি হবে ১৯৮৩ সালের পর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রথম কোনও অর্থবহ আলোচনা, যা অঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আশাবাদ
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, "উভয় পক্ষই শান্তি চায় এবং আমি বিশ্বাস করি খুব দ্রুতই তা বাস্তবায়িত হবে।" এই বিবৃতিতে তিনি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর জন্য তার সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
১৯৮৩ সালের চুক্তির পটভূমি
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮৩ সালে ইসরায়েল ও লেবানন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে লেবানন কর্তৃক ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত ছিল। তবে লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় সেই চুক্তি ভেস্তে যায় এবং এক বছর পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠক প্রসঙ্গে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেন, "এই আলোচনার প্রথম লক্ষ্যই ছিল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।" এক বিবৃতিতে তিনি আরও যোগ করেন, "আমি এই অর্জনের জন্য সব লেবানিজকে অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহত ও ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া নাগরিকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি।"
এই আলোচনা ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে একটি মাইলফলক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদিও চূড়ান্ত ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।



