গার্ডিয়ানের সর্বকালের সেরা ১০০ উপন্যাসের তালিকা প্রকাশ
গার্ডিয়ানের সেরা ১০০ উপন্যাসের তালিকা প্রকাশ

বিশ্বসাহিত্যের সর্বকালের সেরা ১০০ উপন্যাসের একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান। বিশ্বের ১৭০ জনেরও বেশি ঔপন্যাসিক, সাহিত্যসমালোচক ও গবেষকের ভোটের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশ নেন স্টিফেন কিং, সালমান রুশদি, বার্নার্ডিন এভারিস্টো, ডেভিড নিকোলস, এলিফ শাফাক, ইয়ান ম্যাকইউয়ান, অ্যান এনরাইট, ম্যাগি ও’ফ্যারেল ও কোলম টইবিনের মতো সমকালীন সাহিত্যের বহু খ্যাতিমান লেখক। প্রত্যেককে তাদের পছন্দের ১০টি উপন্যাসের তালিকা দিতে বলা হয়েছিল, এবং সেখান থেকে ভোটের সমন্বয়ে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

পাঠাভ্যাসের সংকটে তালিকার গুরুত্ব

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে বই পড়ার অভ্যাস ক্রমশ কমে যাওয়ায় এমন একটি তালিকার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিয়মিত বই পড়েন না। শিশু ও তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে পাঠকদের সেরা সাহিত্যকর্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে।

শীর্ষ পাঁচে কারা?

এই তালিকার শীর্ষে স্থান পেয়েছে জর্জ এলিয়টের বিখ্যাত উপন্যাস মিডলমার্চ (১৮৭১–১৮৭২)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মার্কিন নোবেলজয়ী লেখক টনি মরিসনের বেলোভেড (১৯৮৭)। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জেমস জয়েসের ইউলিসিস (১৯২২) এবং চতুর্থ স্থানে ভার্জিনিয়া উলফের টু দ্য লাইটহাউস (১৯২৭)। পঞ্চম স্থানে রয়েছে মার্সেল প্রুস্তের মহাকাব্যিক রচনা ইন সার্চ অফ লস্ট টাইম (১৯১৩–১৯২৭)।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নারী লেখক ও জীবিত লেখকদের উপস্থিতি

এবারের তালিকায় ৩৬ জন নারী লেখকের উপন্যাস রয়েছে, যেখানে ২০১৫ সালের তালিকায় এই সংখ্যা ছিল ২১ এবং ২০০৩ সালে ছিল মাত্র ১৬। ভার্জিনিয়া উলফের পাঁচটি উপন্যাস তালিকায় স্থান পেয়েছে। জেন অস্টেন ও চার্লস ডিকেন্সের চারটি করে উপন্যাস অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জীবিত লেখকদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন সালমান রুশদি, যার মিডনাইটস চিলড্রেন (১৯৮১) ২৩তম স্থানে রয়েছে।

প্রশংসার চেয়ে বিতর্কই বেশি

অনেক জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী লেখক এই তালিকায় স্থান পাননি, যেমন: জে. আর. আর. টলকিন, সি. এস. লুইস, উইলিয়াম গোল্ডিং, জন আপডাইক ও ফিলিপ রথের মতো সাহিত্যিকরা। এমনকি স্টিফেন কিংয়ের নিজের কোনো উপন্যাসও তালিকায় নেই। অনেকেই মন্তব্য করেন, নতুন পাঠকদের জন্য এত দীর্ঘ, জটিল ও গম্ভীর উপন্যাসের তালিকার চেয়ে পাঠাভ্যাস গড়ার ১০০ সেরা বই-এর তালিকা বেশি কার্যকর হতে পারত। এমন তালিকায় জনপ্রিয় ও সহজপাঠ্য লেখকদের স্থান থাকা উচিত, কারণ অনেক মানুষের পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠে জনপ্রিয় সাহিত্য পড়ার মাধ্যমেই।

গোল্ডস্মিথস বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অ্যালান ডাউনি বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কেন আঠারো শতকের প্রভাবশালী ঔপন্যাসিক হেনরি ফিল্ডিংয়ের বিখ্যাত উপন্যাস টম জোন্স তালিকায় স্থান পায়নি? ডাউনির মতে, ইংরেজি উপন্যাসের বিকাশে ফিল্ডিংয়ের ভূমিকা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তার সাহিত্যিক প্রভাব ছাড়া জর্জ এলিয়ট, চার্লস ডিকেন্স কিংবা জেন অস্টেনের মতো ঔপন্যাসিকদের সৃজনশীল বিকাশ কল্পনা করাও কঠিন।

ড. জেমস টেইলর মন্তব্য করেন, শীর্ষস্থানীয় উপন্যাসগুলোর বিশাল আকার পাঠকদের অনুপ্রাণিত করার বদলে অনেক সময় ভীত করে তুলতে পারে। ইন সার্চ অফ লস্ট টাইম (প্রায় ৪,২০০ পৃষ্ঠা), ওয়ার অ্যান্ড পিস (প্রায় ১,৪০০ পৃষ্ঠা) এবং আনা কারেনিনা (প্রায় ৮৫০ পৃষ্ঠা)-এর মতো বিশাল আয়তনের গ্রন্থগুলো সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও সাধারণ পাঠকের কাছে দুর্গম মনে হতে পারে।

সাহিত্যে 'সেরা' নির্ধারণের সীমাবদ্ধতা

গার্ডিয়ানের মতে, সাহিত্যে 'সেরা' নির্ধারণের কোনো চূড়ান্ত মানদণ্ড নেই। একটি উপন্যাস হয়তো সমাজকে বদলে দেয়, আরেকটি পাঠকের ব্যক্তিগত জীবনকে স্পর্শ করে। ফলে এ ধরনের তালিকা কখনোই চূড়ান্ত নয়—সাহিত্য নিয়ে নতুন আলোচনা ও বিতর্কের সূত্রপাত ঘটানোই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

সেরা ১০০ উপন্যাসের তালিকা

  1. জর্জ এলিয়টের মিডলমার্চ (১৮৭১–১৮৭২)
  2. টনি মরিসনের বেলোভেড (১৯৮৭)
  3. জেমস জয়েসের ইউলিসিস (১৯২২)
  4. ভার্জিনিয়া উলফের টু দ্য লাইটহাউস (১৯২৭)
  5. মার্সেল প্রুস্তের ইন সার্চ অফ লস্ট টাইম (১৯১৩–১৯২৭)
  6. লিও টলস্টয়ের আনা কারেনিনা (১৮৭৮)
  7. লিও টলস্টয়ের ওয়ার অ্যান্ড পিস (১৮৬৯)
  8. শার্লট ব্রন্টির জেন আয়ার (১৮৪৭)
  9. জেন অস্টেনের প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস (১৮১৩)
  10. গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের মাদাম বোভারি (১৮৫৬)
  11. এফ. স্কট ফিটজেরাল্ডের দ্য গ্রেট গ্যাটসবি (১৯২৫)
  12. চার্লস ডিকেন্সের ব্লিক হাউস (১৮৫২–১৮৫৩)
  13. জেন অস্টেনের এমা (১৮১৫)
  14. ভার্জিনিয়া উলফের মিসেস ড্যালোওয়ে (১৯২৫)
  15. হারম্যান মেলভিলের মবি-ডিক (১৮৫১)
  16. জর্জ অরওয়েলের নাইনটিন এইটি-ফোর (১৯৪৯)
  17. গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিচুড (১৯৬৭)
  18. জেন অস্টেনের পারসুয়েশন (১৮১৭)
  19. লরেন্স স্টার্নের দ্য লাইফ অ্যান্ড ওপিনিয়নস অফ ট্রিস্ট্রাম শ্যান্ডি, জেন্টলম্যান (১৭৫৯–১৭৬৭)
  20. এমিলি ব্রন্টির উদারিং হাইটস (১৮৪৭)
  21. হেনরি জেমসের দ্য পোর্ট্রেট অফ আ লেডি (১৮৮১)
  22. চিনুয়া আচেবের থিংস ফল অ্যাপার্ট (১৯৫৮)
  23. সালমান রুশদির মিডনাইটস চিলড্রেন (১৯৮১)
  24. কাজুও ইশিগুরোর দ্য রিমেইনস অফ দ্য ডে (১৯৮৯)
  25. ভ্লাদিমির নাবোকভের ললিতা (১৯৫৫)
  26. মিগেল দে সের্ভান্তেসের ডন কুইজোট (১৬০৫, ১৬১৫)
  27. ফ্রাঞ্জ কাফকার দ্য ট্রায়াল (১৯২৫)
  28. ফিওদর দস্তয়েভস্কির দ্য ব্রাদার্স কারামাজভ (১৮৮০)
  29. ভ্লাদিমির নাবোকভের পেল ফায়ার (১৯৬২)
  30. মেরি শেলির ফ্রাঙ্কেনস্টাইন (১৮১৮)
  31. মুরিয়েল স্পার্কের দ্য প্রাইম অফ মিস জিন ব্রডি (১৯৬১)
  32. অরুন্ধতী রায়ের দ্য গড অফ স্মল থিংস (১৯৯৭)
  33. চার্লস ডিকেন্সের ডেভিড কপারফিল্ড (১৮৫০)
  34. হিলারি ম্যান্টেলের উলফ হল (২০০৯)
  35. চার্লস ডিকেন্সের গ্রেট এক্সপেক্টেশনস (১৮৬১)
  36. মার্গারেট অ্যাটউডের দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল (১৯৮৫)
  37. রাল্ফ এলিসনের ইনভিজিবল ম্যান (১৯৫২)
  38. এডিথ ওয়ার্টনের দ্য এজ অফ ইনোসেন্স (১৯২০)
  39. জোরা নিল হার্স্টনের দেয়ার আইজ ওয়্যার ওয়াচিং গড (১৯৩৭)
  40. টনি মরিসনের সং অফ সলোমন (১৯৭৭)
  41. জোসেফ কনরাডের হার্ট অফ ডার্কনেস (১৮৯৯)
  42. টমাস মানের দ্য ম্যাজিক মাউন্টেন (১৯২৪)
  43. মেরিলিন রবিনসনের হাউসকিপিং (১৯৮০)
  44. জেমস বল্ডউইনের জিওভান্নিস রুম (১৯৫৬)
  45. ডরিস লেসিংয়ের দ্য গোল্ডেন নোটবুক (১৯৬২)
  46. জুসেপ্পে তোমাসি দি লাম্পেদুসার দ্য লেপার্ড (১৯৫৮)
  47. উইলিয়াম মেকপিস থ্যাকারির ভ্যানিটি ফেয়ার (১৮৪৭–১৮৪৮)
  48. ফ্রাঞ্জ কাফকার দ্য মেটামরফোসিস (১৯১৫)
  49. রোহিন্টন মিস্ত্রীর আ ফাইন ব্যালেন্স (১৯৯৫)
  50. জিন রাইসের ওয়াইড সারগাসো সি (১৯৬৬)
  51. এলেনা ফেরান্তের মাই ব্রিলিয়ান্ট ফ্রেন্ড (২০১১)
  52. হেনরি জেমসের দ্য গোল্ডেন বোল (১৯০৪)
  53. শার্লি হ্যাজার্ডের দ্য ট্রানজিট অফ ভেনাস (১৯৮০)
  54. ভার্জিনিয়া উলফের অরল্যান্ডো (১৯২৮)
  55. ভার্জিনিয়া উলফের দ্য ওয়েভস (১৯৩১)
  56. জেন অস্টেনের ম্যানসফিল্ড পার্ক (১৮১৪)
  57. উইলিয়াম ফকনারের দ্য সাউন্ড অ্যান্ড দ্য ফিউরি (১৯২৯)
  58. জে. এম. কোয়েটজির ডিসগ্রেস (১৯৯৯)
  59. কাজুও ইশিগুরোর নেভার লেট মি গো (২০০৫)
  60. ই. এম. ফরস্টারের হাওয়ার্ডস এন্ড (১৯১০)
  61. ডব্লিউ. জি. সেবাল্ডের দ্য রিংস অফ স্যাটার্ন (১৯৯৫)
  62. চিমামান্ডা এনগোজি আদিচির হাফ অফ আ ইয়েলো সান (২০০৬)
  63. জেডি স্মিথের হোয়াইট টিথ (২০০০)
  64. ফোর্ড ম্যাডক্স ফোর্ডের দ্য গুড সোলজার (১৯১৫)
  65. অ্যালিস ওয়াকারের দ্য কালার পার্পল (১৯৮২)
  66. মিখাইল বুলগাকভের দ্য মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটা (১৯৬৭)
  67. রবার্ট মুসিলের দ্য ম্যান উইদাউট কোয়ালিটিজ (১৯৩০–১৯৪৩)
  68. করম্যাক ম্যাককার্থির ব্লাড মেরিডিয়ান (১৯৮৫)
  69. ফিওদর দস্তয়েভস্কির ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট (১৮৬৬)
  70. টমাস হার্ডির জুড দ্য অবস্কিওর (১৮৯৫)
  71. অক্টাভিয়া ই. বাটলারের কিন্ড্রেড (১৯৭৯)
  72. চার্লস ডিকেন্সের আওয়ার মিউচুয়াল ফ্রেন্ড (১৮৬৪–১৮৬৫)
  73. ডব্লিউ. জি. সেবাল্ডের অস্টারলিৎজ (২০০১)
  74. সিতসি ডাঙ্গারেম্বগার নার্ভাস কন্ডিশনস (১৯৮৮)
  75. টনি মরিসনের দ্য ব্লুয়েস্ট আই (১৯৭০)
  76. ব্রাম স্টোকারের ড্রাকুলা (১৮৯৭)
  77. ডি. এইচ. লরেন্সের দ্য রেইনবো (১৯১৫)
  78. ভি. এস. নাইপলের আ হাউস ফর মি. বিসওয়াস (১৯৬১)
  79. জেমস বল্ডউইনের গো টেল ইট অন দ্য মাউন্টেন (১৯৫৩)
  80. ড্যাফনি দ্যু মরিয়ের রেবেকা (১৯৩৮)
  81. টমাস মানের বুডেনব্রুকস (১৯০১)
  82. গ্রাহাম গ্রিনের দ্য এন্ড অফ দ্য অ্যাফেয়ার (১৯৫১)
  83. আর্নেস্ট হেমিংওয়ের আ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস (১৯২৯)
  84. প্যাট্রিসিয়া হাইস্মিথের দ্য ট্যালেন্টেড মি. রিপলি (১৯৫৫)
  85. হান কাংয়ের দ্য ভেজিটেরিয়ান (২০০৭)
  86. হেনরি জেমসের দ্য টার্ন অফ দ্য স্ক্রু (১৮৯৮)
  87. অ্যালান হোলিংহার্স্টের দ্য লাইন অফ বিউটি (২০০৪)
  88. ই. এল. ডক্টোরোর র্যাগটাইম (১৯৭৫)
  89. উরসুলা কে. লে গুইনের দ্য লেফট হ্যান্ড অফ ডার্কনেস (১৯৬৯)
  90. ভার্জিনিয়া উলফের জ্যাকবস রুম (১৯২২)
  91. ভাসিলি গ্রসম্যানের লাইফ অ্যান্ড ফেট (১৯৮০)
  92. গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের সেন্টিমেন্টাল এডুকেশন (১৮৬৯)
  93. ইতালো কালভিনোর ইনভিজিবল সিটিজ (১৯৭২)
  94. এডওয়ার্ড পি. জোনসের দ্য নোন ওয়ার্ল্ড (২০০৩)
  95. টমাস হার্ডির দ্য রিটার্ন অফ দ্য নেটিভ (১৮৭৮)
  96. হুয়ান রুলফোর পেদ্রো প্যারামো (১৯৫৫)
  97. জোসেফ হেলারের ক্যাচ-২২ (১৯৬১)
  98. করম্যাক ম্যাককার্থির দ্য রোড (২০০৬)
  99. এল. পি. হার্টলির দ্য গো-বিটুইন (১৯৫৩)
  100. উইলা ক্যাথারের মাই অ্যান্টোনিয়া (১৯১৮)