পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ফুফাতো বোনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে সাত বছর বয়সী এক শিশু। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জুগির হাওলা সংলগ্ন কাটাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
নিহত শিশু সুরাইয়া ওই এলাকার অনিক কাজীর মেয়ে। অন্যদিকে জীবিত উদ্ধার হওয়া শিশু হুমায়রা (৪) উপজেলার হাপুয়াখালী গ্রামের রাকিব হাওলাদারের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এদিন সুরাইয়ার চাচার বিয়ে অনুষ্ঠান ছিল। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হুমায়রা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মামাতো বোন সুরাইয়ার বাড়িতে বেড়াতে আসে।
ঘটনার ধারাবাহিকতা
পরিবারের লোকজনের ধারণা, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে বাড়ির আঙ্গিনায় মামাতা-ফুফাতো বোন একসঙ্গে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে হুমায়রা পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে হয়তো সুরাইয়া পুকুরে নেমে তাকে উদ্ধার করে তীরে তুলতে সক্ষম হয়। তবে এ সময় নিজেই পানিতে তলিয়ে যায়।
উদ্ধার প্রচেষ্টা
এদিকে হুমায়রাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে হুমায়রাকে পুকুরপাড়ের পানিতে ভেজা জামা-কাপড়ে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। হুমায়রাকে উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা সুরাইয়াকে দেখতে না পেয়ে তাকেও খুঁজতে শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকের বক্তব্য
রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, হুমায়রা সুস্থ আছে। তার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তার মামাতো বোনকে মৃত অবস্থায়ই আমাদের কাছে নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। খোজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



