ট্রাম্পের ইরান হামলা বিবেচনা, পারমাণবিক চুক্তিতে আলোচনা জোরদার
ট্রাম্পের ইরান হামলা বিবেচনা, পারমাণবিক আলোচনা জোরদার

ট্রাম্পের ইরান হামলা বিবেচনা, পারমাণবিক আলোচনায় নতুন মোড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক চুক্তিতে বাধ্য করতে দেশটিতে একটি সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সরাসরি স্বীকার করেছেন যে তিনি এই পদক্ষেপটি গভীরভাবে ভাবছেন।

হামলার পরিকল্পনা ও বিস্তারিত অস্পষ্ট

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানকে নতুন চুক্তিতে আসতে বাধ্য করতে কোনও সীমিত হামলার পরিকল্পনা আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমি মনে হয় বলতে পারি যে, আমি এটি (সীমিত হামলা) বিবেচনা করছি।" তবে তিনি সম্ভাব্য এই হামলার রূপরেখা বা বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইরানের ইতিবাচক ইঙ্গিত ও আলোচনার অগ্রগতি

এদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরান ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধের কোনও শর্ত দেয়নি। অন্যদিকে, ইরানও সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার কোনও প্রস্তাব দেয়নি।

শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, "আমরা সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের কোনও প্রস্তাব দিইনি এবং যুক্তরাষ্ট্রও তা পুরোপুরি বন্ধ করতে বলেনি।" তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে আলোচনার মূল বিষয় হলো, কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেবল শান্তিপূর্ণ কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা শান্তিপূর্ণ থাকবে।

আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ

আরাঘচি আরও জানান, ইরানের এই কর্মসূচি যে শান্তিপূর্ণ, তা নিশ্চিত করতে কিছু প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ওয়াশিংটন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি, যা আলোচনার গতিপথ অনিশ্চিত করে রেখেছে।

কূটনৈতিক চুক্তির সম্ভাবনা ও সময়সীমা

মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের কাছে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রস্তাব দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলেও, আরাঘচি মনে করেন একটি কূটনৈতিক চুক্তি এখন হাতের নাগালে। তিনি বলেন, "খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আমরা একটি খসড়া প্রস্তাব দেব এবং সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা শুরু হতে পারে।"

এই পরিস্থিতিতে, ট্রাম্পের হামলা বিবেচনা এবং ইরানের আলোচনায় ইতিবাচকতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার এই দ্বৈত অবস্থান ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হতে পারে।