জাতীয় সংসদে প্রফেসর দিলারা হাফিজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী প্রফেসর দিলারা হাফিজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান ও অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দ। কালো কাপড়ে মোড়ানো মঞ্চে প্রয়াতার কফিনটি স্থাপন করা হয় দুপুর ১২টার দিকে, যেখানে সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রথমে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব খান মোঃ নুরুল আমিন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান ব্যক্তিগতভাবে শেষ শ্রদ্ধা জানান পুষ্পস্তবক রাখার মাধ্যমে। এই মুহূর্তে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়, যা দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংসদীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ
পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ও চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি আলাদাভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের সঙ্গে হুইপ জিকে গাউস, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহমদ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এবিএম আশরাফ উদ্দিনও কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা
শাসনকারী দল বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুষ্পস্তবক রাখেন। এর আগে ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা, চীফ হুইপ ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ একাধিক নেতা প্রয়াতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরবর্তীতে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার স্ত্রীর চিরশান্তির জন্য দোয়া কামনা করেন।
নামাজে জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের পর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। প্রসঙ্গত, দিলারা হাফিজের দেহ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। তিনি ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ৭৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে তার দেহ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কেন্দ্রীয় মসজিদে আরেকটি জানাজার জন্য নেওয়া হবে, এরপর বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মানবিক দিক ও জাতীয় সংহতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে। প্রফেসর দিলারা হাফিজের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে সকলেই এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।



