হাসনাত আব্দুল্লাহর নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজির ভুয়া ভিডিও: ফ্যাক্টচেক যা বলছে
হাসনাত আব্দুল্লাহর এলাকায় চাঁদাবাজির ভুয়া ভিডিও

হাসনাত আব্দুল্লাহর নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজির ভুয়া ভিডিও: ফ্যাক্টচেক যা বলছে

জুলাইয়ের গণআন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ও এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সম্প্রতি তার নির্বাচনী এলাকা দেবিদ্বারে চাঁদাবাজির দাবি নিয়ে ফেসবুকে একাধিক ভাইরাল ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে, এই ভিডিওটি সম্পাদনা করে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে কী দেখা গিয়েছিল?

ভাইরাল ভিডিওটিতে শুরুতে হাসনাত আব্দুল্লাহকে একটি ফোনকলে বলতে শোনা যায়, ‘কোনো চাঁদাবাজি চলবে না দেবিদ্বারে’। এরপর একজন সিএনজি চালককে বলতে শোনা যায়, ‘১৭ বছর গাড়ি চালাইছি, কোনো জিপি-টিপি লাগে না, আমরার চাঁদা নেয় না। এখন হাসনাত ভাইয়ে আসার পরে আমরা ১২০ টাকা কইরা জিপি দিসি।’ এই ভিডিওটি একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত হয় এবং প্রায় ২৭ হাজার রিঅ্যাকশন ও ৫ হাজার শেয়ার সংগ্রহ করে, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধানের ফলাফল

রিউমার স্ক্যানার নামক ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান এই ভিডিওটি নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালায়। তাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সিএনজি চালক আসলে উলটো দাবি করেছিলেন। চালকের মূল বক্তব্য ছিল, ‘১৭ বছর গাড়ি চালাইছি, আমরা ১২০ টাকা কইরা জিপি দিসি। এখন হাসনাত ভাইয়ে আসার পরে কোনো জিপি-টিপি লাগে না, আমরার চাঁদা নেয় না।’ অর্থাৎ, ভাইরাল ভিডিওতে চালকের বক্তব্য সম্পাদনা করে বিপরীতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিডিওটির প্রকৃতি ও প্রভাব

এই ভুয়া ভিডিওটি সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে বলে রিউমার স্ক্যানার নিশ্চিত করেছে। এটি একটি বানোয়াট দাবি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ভিডিওটির দ্রুত ভাইরাল হওয়া এবং ব্যাপক শেয়ারিং দেখায়, কীভাবে মিথ্যা তথ্য দ্রুত প্রচারিত হতে পারে এবং জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে।

হাসনাত আব্দুল্লাহর নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার দেবিদ্বারে এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভিডিওটিতে উপস্থাপিত তথ্য ভিত্তিহীন এবং চাঁদাবাজির দাবি মিথ্যা। এই ধরনের মিথ্যা প্রচার সামাজিক মাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।