অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাইয়ে বিশেষ কমিটির বৈঠক সম্পন্ন
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে টানা তৃতীয় দিনের মতো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আলোচনা চলে।
বৈঠকে অংশগ্রহণ ও মতবিরোধের বিষয়
বৈঠকে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ অন্যান্য সংসদ সদস্য। বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, অধ্যাদেশগুলো যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারি দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু বিষয় পাস করানোর চেষ্টা করেছে। বিরোধী দলের সদস্যরা ১৪-১৫টি বিষয়ে একমত হননি এবং তারা নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছেন।
বিরোধী দলের উদ্বেগ ও সংস্কার বিষয়
রফিকুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মতো সংস্কার হয়েছে। তবে সরকারি দল এগুলোকে দলীয়করণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, "দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীন কমিশন, কিন্তু এখানে নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে শুরু করে অনেক কিছু সরকারি দল বাদ দিতে চাইছে। বিরোধী দল এখানে একমত হয়নি।"
গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক
এক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম খান জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "যদি গণভোট সংবিধানে না থাকে, তাহলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় কীভাবে? গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো অধ্যাদেশ যেভাবে আছে সেভাবে পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে।
তিনি বলেন, "কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট এসেছে, সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হবে। বিল আকারে যখন উত্থাপিত হবে, তখন সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তব্য দিতে পারবেন।"
গণভোট অধ্যাদেশ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে, সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। তাই এটাকে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই।"
বিশেষ কমিটির গঠন ও প্রতিবেদন জমা
সাধারণত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বিল যাচাই-বাছাই করে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ধরনের কমিটি গঠন করা হয়নি। তাই অধ্যাদেশগুলো বাছাইয়ে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্তগুলো জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে আলোচনার বিষয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



