সংবিধান সংস্কার পরিষদের নোটিশ বৈধ নয়, সংশোধন চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধান সংস্কার নোটিশ বৈধ নয়, সংশোধন চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংস্কার পরিষদের নোটিশ বৈধ নয়, সংশোধন চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের নোটিশ বৈধ নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ নম্বর বিধিতে এই নোটিশ গ্রহণ করা হলে তা সংশোধিত আকারে আনতে হবে। রবিবার (২৯ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান নোটিশটি উপস্থাপনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্লোর নিয়ে এই বক্তব্য দেন।

নোটিশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা যে নোটিশটি দিয়েছেন, তা সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধির সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি সাম্প্রতিক ও জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য মূলতবি প্রস্তাব এনেছেন। বিধি ৬৮ অনুযায়ী এ ধরনের নোটিশে মাত্র আধা ঘণ্টা আলোচনার সুযোগ থাকে। কিন্তু তিনি যদি ৬২ বিধিতে আলোচনা চান, তবে নোটিশটি সংশোধন করে আনতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আইনমন্ত্রী আলোচনায় রাজি হয়েছেন, কিন্তু বিধি অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। স্পিকার হাউসের অভিভাবক হিসেবে চাইলে এটি সংশোধিত আকারে গ্রহণ করতে পারেন অথবা বিরোধীদলীয় নেতাকে পুনরায় নোটিশ দিতে বলতে পারেন। নোটিশটি বৈধ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিরোধী দলের তীব্র প্রতিক্রিয়া

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রবল আপত্তি জানান এবং হইচই শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের প্রোটেকশন চেয়ে বলেন, “আমাদের পুরনো (হৈচৈ করার) কালচারে ফেরা উচিত নয়। বিধিসম্মতভাবে কথা বলতে দিন।” স্পিকারের অনুমতি পেয়ে তিনি পুনরায় বলেন, “আমি জুলাই জাতীয় সনদের বিরোধিতা করছি না, বরং সঠিক প্রক্রিয়ায় আলোচনার কথা বলছি।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুলাই জাতীয় সনদের ব্যাখ্যা

জুলাই জাতীয় সনদ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল। এর মাধ্যমে সংবিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন বা রহিত হয়ে যায়নি। বরং এটি একটি অঙ্গীকার যে, পরবর্তী সংসদ এই সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করবে। তাই আলোচনার আগে আইনি ভিত্তি ও সঠিক বিধি নিশ্চিত করতে হবে।”

বিতর্ক চলাকালীন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার বক্তব্য শেষ করার সুযোগ দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।