ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু, ড. ইউনূস-সেনাপ্রধানসহ উপস্থিতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) বেলা ১১টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দর্শক সারিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
জাতীয় সংসদের অধিবেশনের দর্শক সারিতে সদ্য সাবেক অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান ওয়াকার–উজ–জামান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবায়দা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান প্রমুখকে দেখা গেছে। এই উপস্থিতি অধিবেশনের গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থা
সংসদ অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনএর নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক।"
১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
এই সংকটকালীন অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, "তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আজকের এই নজিরবিহীন প্রেক্ষাপটে আমরা প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু করছি।" এই বক্তব্য সংসদীয় প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
ত্রয়োদশ সংসদের এই প্রথম অধিবেশনটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা এবং প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক উদাহরণ টানা এই অধিবেশনকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের এই ধারাবাহিকতা দেশের জন্য আশার বার্তা বয়ে আনছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



