খুলনার তিন বিএনপি নেতার মন্ত্রিত্বের দাবিতে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া
খুলনার তিন বিএনপি নেতার মন্ত্রিত্বের দাবিতে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া

খুলনা জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এখন জেলাজুড়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাবেন। এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির তিন নেতা: কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এবং বিসিবির সাবেক সভাপতি আলী আজগর লবী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্ত্রিত্বের দাবি

খুলনার সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের দাবি, এই তিন নেতার মধ্য থেকে অন্তত একজনকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হোক। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র, ক্রীড়া এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে তাদের দেখতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন সমর্থকরা। তারা আশাবাদী, দীর্ঘদিন পর বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে এবং এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদে অবশ্যই এই তিন নেতার প্রয়োজন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ থেকে এখন অবধি কোনো নেতা ফোন পাননি বলে জানা গেছে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, খুলনার যেকোনো একজন নেতাকে মন্ত্রিপরিষদে রাখা হতে পারে। কেন্দ্রীয় দুই নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল ও আজিজুল বারী হেলাল এই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

তারেক রহমানের আস্থাভাজন বকুল

খুলনা নগরীর দুটি আসনের একটি আসন দখল করেছে বিএনপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমিরকে পরাজিত করে খুলনা-৩ (দৌলতপুর-খালিশপুর-খান আলী) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনায় আসেন। জনসভা শেষে তিনি নগরীর খালিশপুর এলাকার বকুলের বাড়িতে দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ করেন, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। তিনি তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে অনেক আগে থেকেই পরিচিত।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন তারেক রহমানের কাছাকাছি থাকতেন রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি ২০১৮ সালে এই আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। তার স্ত্রী পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। রকিবুল ইসলাম বকুলকে অনেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখতে যাচ্ছেন বলে মত প্রকাশ করেছেন।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা হেলাল

খুলনা-৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা) আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন। তিনি মোট তিনবার নির্বাচন করেছেন এবং এবারই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী। ২০০৮ সালে তিনি ঢাকার ১৮ আসন থেকেও আওয়ামী লীগের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারা খাতুনের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছিলেন। একাধিক গণমাধ্যমে আজিজুল বারী হেলালকে বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেখতে যাচ্ছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ লবী

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিসিবির সাবেক সভাপতি আলী আজগর লবী। তিনি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ারকে এ আসনে পরাজিত করে দেশের চমক লাগিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনে জয়লাভ করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফোন করে তিনি তার বিষয়টি জানান, যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৫ সালে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি খুলনা-৫ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের কাজ শুরু করেন। অথচ এর আগে তিনি খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও জিয়া পরিবারের সঙ্গে তার অবস্থান শক্ত ছিল। খুলনার সাধারণ মানুষ তাকে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দেখতে চান বলে জানা গেছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এই সাফল্য এবং মন্ত্রিত্ব নিয়ে চলমান আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। খুলনার স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব মন্ত্রিসভায় কতটা প্রতিফলিত হবে, তা এখনই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সবার।