নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, যানজটে ভোগান্তি
বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, যানজট

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারাব পৌরসভার খাদুন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়, যার ফলে প্রায় আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ ও বিক্ষোভের কারণ

শ্রমিকদের অভিযোগ, খাদুন এলাকার 'ভুঁইয়া ফেব্রিকস' নামের কারখানায় প্রায় ৪০০ শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাস দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে। মালিকপক্ষ বারবার বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

আজ সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় এসে জানতে পারেন যে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস ১৮ মার্চ পরিশোধ করা হবে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন, যা যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

অবরোধের প্রভাব ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়, যার কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্টরা এই পরিস্থিতিতে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন। পরে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মালিকপক্ষ আগামীকাল ১২ মার্চ বেতন ও বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিয়ে কাজে যোগ দেন।

রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'মালিকপক্ষের আশ্বাসের পর শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।' এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকরা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাপক বিঘ্নের সম্মুখীন হন।

সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই অবরোধ কর্মসূচি শুধুমাত্র যানজটই সৃষ্টি করেনি, বরং এটি শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্য মজুরির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করেন যে মালিকপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।