ময়মনসিংহে বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ৫০ কিলোমিটার যানজট
ভালুকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ৫০ কিলোমিটার যানজট

ময়মনসিংহের ভালুকায় বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শেফার্ড (গ্রুপ) জিন্স লিমিটেড কারখানার শতাধিক শ্রমিক। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ কর্মসূচিতে সড়কে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তি বয়ে আনে।

শ্রমিকদের অভিযোগ ও দাবি

বিক্ষোভরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন যে, ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস এবং বাৎসরিক ছুটির টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষ ১০ মার্চের মধ্যে এসব পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি বলে তারা জানান। সামনে ঈদ উৎসব থাকায় এই অর্থের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে শ্রমিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কারখানার এক শ্রমিক লিপি আক্তার বলেন, "সামনে ঈদ। আমাদের কেনাকাটাসহ নানা প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এখনো বেতন, ঈদ বোনাস ও ছুটির টাকা দেওয়া হয়নি। কবে দেওয়া হবে সে বিষয়েও কেউ স্পষ্ট করে কিছু জানাচ্ছে না।" আরেক শ্রমিক ফারুক যোগ করেন, "ঈদের আগে যদি শ্রমিকদের বেতন-বোনাস না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব? মালিকপক্ষ আমাদের দাবির প্রতি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।"

অবরোধের প্রভাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ

শ্রমিকদের এই অবরোধের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় সোয়া ২টা পর্যন্ত চলমান এই অবরোধে রমজান মাসের মধ্যে সৃষ্ট দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া যাত্রীদের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, ভালুকা থানা পুলিশ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে শ্রমিকরা দুপুর ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য

শ্রমিকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে শেফার্ড (গ্রুপ) জিন্স লিমিটেডের জিএম সাকিবুর রহমান জানান, শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। ঈদ বোনাস আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, "রমজানের মধ্যে মহাসড়ক অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ এ যানজটে আটকে পড়া যাত্রীদের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।"

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা শ্রমিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও মহাসড়ক অবরোধের ফলে সৃষ্ট যানজটে তাদেরও ব্যাপক inconveniences হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে শ্রমিক-মালিক আলোচনা জোরদার করা হবে।