বরিশালে সিটি করপোরেশন শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি
ঈদুল ফিতরের আগে বেতন ও বোনাসের দাবিতে বরিশালে কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকরা। বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো এই কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে নগরীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন দেড় শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও শ্রমিকদের বক্তব্য
বেলা ১২টায় নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অশ্বিনী কুমার হলের সামনে জড়ো হয়ে তারা জোরালো বিক্ষোভ করেন। সমাবেশে শ্রমিকরা তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, 'আমরা নগরীর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে শহরকে সুন্দর রাখি, কিন্তু আমাদেরকেই আবর্জনার মতো ছুড়ে ফেলা হচ্ছে।' তারা আরও উল্লেখ করেন, আট দিনের কর্তন করে মাত্র ২২ দিনের বেতন দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে।
একজন শ্রমিক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, 'ঈদে সন্তানকে একটি নতুন জামা কিনে দিতে পারছি না, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।' অস্থায়ী শ্রমিকদের ঈদের সময় কোনো বোনাস না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তারা অমানবিক ও অন্যায্য বলে অভিহিত করেছেন। তাই তারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ঈদে পূর্ণাঙ্গ বেতন ও বোনাস না দিলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা বন্ধ রাখবেন।
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১,৪০০ শ্রমিক দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত রয়েছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, তারা প্রতি মাসে ২২ দিনের বেতন ৭৫০ টাকা হারে গ্রহণ করেন এবং এ ছাড়া তাদের অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নিয়ম নেই।
তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, প্রশাসক তার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রত্যেক শ্রমিককে এক হাজার টাকা করে বোনাস দিয়েছেন, যা মঙ্গলবারই তারা গ্রহণ করেছেন। রেজাউল বারী দাবি করেন, 'মুষ্টিমেয় কিছু শ্রমিক এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকে সিটি করপোরেশনে অপ্রয়োজনীয় সমস্যা সৃষ্টি করছে।' তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শীঘ্রই এই বিষয়টি সমাধান হবে এবং শ্রমিকরা তাদের নিয়মিত দায়িত্বে ফিরে আসবেন।
এই কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ বরিশাল নগরীর স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শ্রমিকদের দাবি পূরণে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
